
সংবাদ আজকাল ডেস্ক ঃ
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও এসএসসি (ভকেশনাল) পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এবারের পরীক্ষায় সারা দেশে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পরীক্ষার প্রথম দিনে আজ এসএসসিতে বাংলা প্রথম পত্র, দাখিলে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং ভকেশনালে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা হবে। সকাল ১০টায় প্রতিদিন পরীক্ষা শুরু হলেও যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। এর পর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষার্থী ৩ লাখের বেশি। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এবারের এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নেবে। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র ঢাকা বোর্ডে, ৫১০টি এবং সবচেয়ে কম কেন্দ্র ময়মনসিংহে, ১৮৮ টি। অন্যদিকে, মাদ্রাসা বোর্ডের আওতায় ৭৪২টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৬৫৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, এ জন্য যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষার সময় যেন বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিক থাকে, এ জন্য সারা দেশের দায়িত্বপ্রাপ্তদের চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের মন থেকে পরীক্ষাভীতি দূর করতে দূর করতে চাই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষাভীতি তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী। এসএসসি পরীক্ষার খাতা পরীক্ষকেরা ঠিকভাবে দেখছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
১৪ দফা নির্দেশনা
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে ১৪টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাগুলো হলো—
১. পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই নিজ আসনে বসতে হবে।
২. প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
৩. প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে সংগ্রহ করবে।
৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে।
৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফরমে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করা যাবে না।
৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের ভেতর প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।
১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।
১১. কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।
১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকা ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।
15.
প্রতিবেদকের নাম 










