Dhaka ১২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা চাঁদাবাজ-দখলদারদের যায়গা বিএনপিতে নেই মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় আজহারীর দোয়া, ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ সারিয়াকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আটক ৩ বগুড়ায় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে শহীদ পরিবার সোসাইটির স্মরণসভা

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া : রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালুচ গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবু কালামের মেয়ে সাদিয়া আক্তার লামিয়া।

মঙ্গলবার (২ জুন) বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে দাবি করেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে আসছে। সম্প্রতি দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঝাঁঝিরা গ্রামের বাসিন্দা মানিক চৌধুরী হত্যা মামলায় তার বাবা মো. আবু কালামকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে সাদিয়া আক্তার লামিয়া বলেন, গত ১৮ মে দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঝাঁঝিরা গ্রামের বাসিন্দা মানিক চৌধুরী নিহত হন। ঘটনার সূত্রপাত হয় ছাগল ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে। ঝাঁঝিরা গ্রামের খাস জমির ওপর নির্মিত গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. ফিরোজ হোসেন ওরফে কাকরুলের ঘাসের জমিতে মানিক চৌধুরীর ছাগল প্রবেশ করে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় কথাকাটাকাটি এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

তিনি আরও বলেন, একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঝাঁঝিরা গ্রামের বাঙালি বাজার এলাকায় উক্ত বিষয় নিয়ে পুনরায় মানিক চৌধুরী ও ফিরোজ হোসেনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় ফিরোজ হোসেন ওরফে কাকরুল লাঠি দিয়ে মানিক চৌধুরীর ঘাড়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ঘটনার পর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশিত হয়। এমনকি প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহত মানিক চৌধুরীর একাধিক স্বজনও বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলার গতিপথ ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

সাদিয়া আক্তার লামিয়া বলেন, ঘটনার সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার বাবা মো. আবু কালামকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তার বাবা তালুচ বাজারে অবস্থান করছিলেন এবং বিষয়টি প্রমাণের জন্য সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় গত ১৭ বছরে ৫৪টি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাদের পরিবারের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তাদের লিজ নেওয়া ২০টি পুকুরের মাছ লুট করা হয়েছে, পাইকারি মুদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুটপাট করা হয়েছে এবং তাদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া তার এক চাচা গুমের শিকার হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

সংবাদ সম্মেলনে সাদিয়া আক্তার লামিয়া বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ হয়নি। এখনো এলাকায় এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরিশেষে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানিক চৌধুরী হত্যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে তার বাবা মো. আবু কালামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

আপডেটের সময়: ০৪:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া : রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালুচ গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবু কালামের মেয়ে সাদিয়া আক্তার লামিয়া।

মঙ্গলবার (২ জুন) বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে দাবি করেন, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে আসছে। সম্প্রতি দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঝাঁঝিরা গ্রামের বাসিন্দা মানিক চৌধুরী হত্যা মামলায় তার বাবা মো. আবু কালামকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে সাদিয়া আক্তার লামিয়া বলেন, গত ১৮ মে দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঝাঁঝিরা গ্রামের বাসিন্দা মানিক চৌধুরী নিহত হন। ঘটনার সূত্রপাত হয় ছাগল ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে। ঝাঁঝিরা গ্রামের খাস জমির ওপর নির্মিত গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. ফিরোজ হোসেন ওরফে কাকরুলের ঘাসের জমিতে মানিক চৌধুরীর ছাগল প্রবেশ করে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় কথাকাটাকাটি এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

তিনি আরও বলেন, একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঝাঁঝিরা গ্রামের বাঙালি বাজার এলাকায় উক্ত বিষয় নিয়ে পুনরায় মানিক চৌধুরী ও ফিরোজ হোসেনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় ফিরোজ হোসেন ওরফে কাকরুল লাঠি দিয়ে মানিক চৌধুরীর ঘাড়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ঘটনার পর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশিত হয়। এমনকি প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহত মানিক চৌধুরীর একাধিক স্বজনও বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলার গতিপথ ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

সাদিয়া আক্তার লামিয়া বলেন, ঘটনার সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার বাবা মো. আবু কালামকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তার বাবা তালুচ বাজারে অবস্থান করছিলেন এবং বিষয়টি প্রমাণের জন্য সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় গত ১৭ বছরে ৫৪টি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলার শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাদের পরিবারের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, তাদের লিজ নেওয়া ২০টি পুকুরের মাছ লুট করা হয়েছে, পাইকারি মুদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুটপাট করা হয়েছে এবং তাদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া তার এক চাচা গুমের শিকার হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

সংবাদ সম্মেলনে সাদিয়া আক্তার লামিয়া বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ হয়নি। এখনো এলাকায় এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরিশেষে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানিক চৌধুরী হত্যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে তার বাবা মো. আবু কালামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।