Dhaka ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সারিয়াকান্দিতে ছাত্রদলের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন সোনাতলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদকসহ যুবক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট শুরু, ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য লিখিত ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের পর সোনাতলা রেলস্টেশনে কাজে ফিরলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বগুড়ায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবার মৃত্যুদণ্ড বগুড়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, জালাল গ্রুপের ১১জন গ্রেপ্তার বগুড়ার সোনাতলায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রেলস্টেশনে হামলার অভিযোগ পার্বতীপুরে সন্তান নিয়ে দাম্পত্য বিরোধ তুঙ্গে, হুমকি-ভয়ভীতির অভিযোগে দিশেহারা স্বামী সোনাতলার বালুয়াহাট স্ট্যান্ড আঞ্চলিক অটোরিক্সা-ভ্যান শ্রমিক দলের কমিটি ঘোষণা সোনাতলায় ব্র্যাকের বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ক্যাম্প, চিকিৎসা পেলেন ৫৪৫ জন

জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে তিন বাংলাদেশি উধাও, বিজিবি-গ্রামবাসীর বক্তব্যে ভিন্নতা

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করা এক বৃদ্ধ দম্পতিসহ তিন বাংলাদেশিকে রোববার সকালে সেখানে আর দেখা যায়নি। তাঁদের সরিয়ে নেওয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শনিবার রাতে নড়াইল থেকে স্বজনেরা সীমান্তে পৌঁছানোর পর বিজিবি ওই তিনজনকে নিয়ে যায়। তবে বিজিবির দাবি, শনিবার রাতেই ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শূন্য রেখা থেকে তাঁদের সরিয়ে নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে বিএসএফ সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে পাঁচজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে দুজন দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলে যান। অপর এক বৃদ্ধ ও দুই নারীকে স্থানীয়রা সীমান্তসংলগ্ন সড়কে আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সীমান্তের শূন্য রেখায় নিয়ে যান এবং কঠোর পাহারায় রাখেন।

আটকদের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, বৃদ্ধের নাম শেখ হাফিজুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রীর নাম নাছিমা বেগম। তাঁদের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে। সঙ্গে থাকা অপর নারী তাঁদের নিকটাত্মীয়। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মাস আগে দালালের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পর ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় তাঁরা দেশটির কারাগারে ছিলেন।

শনিবার ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নড়াইল থেকে তাঁদের স্বজনেরা জয়পুরহাট সীমান্তে আসেন। শেখ হাফিজুর রহমান ও নাছিমা বেগমের ছেলে সোহাগ শেখ, যিনি নড়াইল পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, শনিবার রাতে একটি সাদা রঙের হাইএস মাইক্রোবাসে করে সেখানে পৌঁছান বলে স্থানীয়রা জানান।

সীমান্তসংলগ্ন গ্রামের অন্তত ১০ জন বাসিন্দা জানান, শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ওই তিনজন শূন্য রেখাতেই ছিলেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের রাতে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশ দেন। রোববার ভোরে উঠে তাঁরা শূন্য রেখায় কাউকে দেখতে পাননি। স্থানীয়দের ধারণা, রাতের মধ্যেই তাঁদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মুঠোফোনে সোহাগ শেখ বলেন, “আমার মা-বাবা পাঁচ মাস আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। প্রথম দিকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও প্রায় এক মাস ধরে কোনো যোগাযোগ ছিল না। শনিবার সকালে জয়পুরহাট সীমান্তে তাঁদের আটকের ভিডিও দেখে রাতে সেখানে যাই। কিন্তু মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আসতে দেওয়া হয়নি।তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধীন ভুটিয়াপাড়া বিওপির কমান্ডার শামসুজ্জামান বলেন, “শনিবার রাতে সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করা তিনজনকে বিএসএফ সরিয়ে নিয়ে গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিন বাংলাদেশির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সারিয়াকান্দিতে ছাত্রদলের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে তিন বাংলাদেশি উধাও, বিজিবি-গ্রামবাসীর বক্তব্যে ভিন্নতা

আপডেটের সময়: ০৮:০৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করা এক বৃদ্ধ দম্পতিসহ তিন বাংলাদেশিকে রোববার সকালে সেখানে আর দেখা যায়নি। তাঁদের সরিয়ে নেওয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শনিবার রাতে নড়াইল থেকে স্বজনেরা সীমান্তে পৌঁছানোর পর বিজিবি ওই তিনজনকে নিয়ে যায়। তবে বিজিবির দাবি, শনিবার রাতেই ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) শূন্য রেখা থেকে তাঁদের সরিয়ে নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে বিএসএফ সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে পাঁচজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে দুজন দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলে যান। অপর এক বৃদ্ধ ও দুই নারীকে স্থানীয়রা সীমান্তসংলগ্ন সড়কে আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সীমান্তের শূন্য রেখায় নিয়ে যান এবং কঠোর পাহারায় রাখেন।

আটকদের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, বৃদ্ধের নাম শেখ হাফিজুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রীর নাম নাছিমা বেগম। তাঁদের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে। সঙ্গে থাকা অপর নারী তাঁদের নিকটাত্মীয়। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মাস আগে দালালের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পর ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় তাঁরা দেশটির কারাগারে ছিলেন।

শনিবার ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নড়াইল থেকে তাঁদের স্বজনেরা জয়পুরহাট সীমান্তে আসেন। শেখ হাফিজুর রহমান ও নাছিমা বেগমের ছেলে সোহাগ শেখ, যিনি নড়াইল পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, শনিবার রাতে একটি সাদা রঙের হাইএস মাইক্রোবাসে করে সেখানে পৌঁছান বলে স্থানীয়রা জানান।

সীমান্তসংলগ্ন গ্রামের অন্তত ১০ জন বাসিন্দা জানান, শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ওই তিনজন শূন্য রেখাতেই ছিলেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের রাতে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশ দেন। রোববার ভোরে উঠে তাঁরা শূন্য রেখায় কাউকে দেখতে পাননি। স্থানীয়দের ধারণা, রাতের মধ্যেই তাঁদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মুঠোফোনে সোহাগ শেখ বলেন, “আমার মা-বাবা পাঁচ মাস আগে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। প্রথম দিকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও প্রায় এক মাস ধরে কোনো যোগাযোগ ছিল না। শনিবার সকালে জয়পুরহাট সীমান্তে তাঁদের আটকের ভিডিও দেখে রাতে সেখানে যাই। কিন্তু মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আসতে দেওয়া হয়নি।তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধীন ভুটিয়াপাড়া বিওপির কমান্ডার শামসুজ্জামান বলেন, “শনিবার রাতে সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান করা তিনজনকে বিএসএফ সরিয়ে নিয়ে গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিন বাংলাদেশির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।