Dhaka ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিএসএফের পুশইন, জিরো লাইনে মানবিক সংকট ডেঙ্গু প্রতিরোধে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নগরে জন-সচেতনতামূলক র‍্যালি সোনাতলায় দারুস সালাম এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদরাসার ৫ তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক- জাকির বগুড়ায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ র‍্যালি বগুড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার কারামুক্তির পর নারায়ণগঞ্জে ফিরলেন সাবেক মেয়র আইভী, সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা শেরপুরে চাচাতো ভাইয়ের হামলায় কৃষকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১ প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় বাস্তবায়নে বগুড়া শহর এড়িয়ে নতুন রেলপথের প্রস্তাব শ্বশুরবাড়িতে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জামাইয়ের মৃত্যু পার্বতীপুর উপজেলা এনসিপির ৬ মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি গঠন

বিএসএফের পুশইন, জিরো লাইনে মানবিক সংকট

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে ভারতীয় ভূখণ্ডের জিরো লাইনে তিন শিশু ও দুই নারীসহ ১০ জন মানুষ টানা ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা এসব মানুষকে নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বিজিবি তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তারা ভারতীয় অংশের জিরো লাইনে আটকা পড়ে। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে দুই পরিবারের সদস্যদের। দিনের প্রখর রোদ, রাতের ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও কাদাপানির ওপর বসে কিংবা শুয়ে থাকতে দেখা গেছে তাদের। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন।

পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম জানান, সঙ্গে থাকা সামান্য খাবার শেষ হয়ে গেছে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় শিশুদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতির চাপে তারা মাঠে জমে থাকা নোংরা পানি পান করেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।
এদিকে মানবিক সংকট ঘিরে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সহায়তা করতে চাইলেও বিজিবির নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সুরুজ মিয়া এবং নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম। সংকট নিরসনে শনিবার দুপুরেও বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আরেক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ দাবি করছে, আটকে পড়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হলেও আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফেরত পাঠাতে হবে। রাতের আঁধারে অনানুষ্ঠানিকভাবে কাউকে সীমান্তে ঠেলে দিলে তা গ্রহণ করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও মানুষগুলো খোলা মাঠে পড়ে আছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আমাদের জানিয়েছে।

সমাধান না হওয়ায় সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে থাকা ১০ জনের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বিএসএফের পুশইন, জিরো লাইনে মানবিক সংকট

বিএসএফের পুশইন, জিরো লাইনে মানবিক সংকট

আপডেটের সময়: ০৮:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে ভারতীয় ভূখণ্ডের জিরো লাইনে তিন শিশু ও দুই নারীসহ ১০ জন মানুষ টানা ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা এসব মানুষকে নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বিজিবি তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তারা ভারতীয় অংশের জিরো লাইনে আটকা পড়ে। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে দুই পরিবারের সদস্যদের। দিনের প্রখর রোদ, রাতের ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও কাদাপানির ওপর বসে কিংবা শুয়ে থাকতে দেখা গেছে তাদের। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন।

পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম জানান, সঙ্গে থাকা সামান্য খাবার শেষ হয়ে গেছে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় শিশুদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতির চাপে তারা মাঠে জমে থাকা নোংরা পানি পান করেই বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।
এদিকে মানবিক সংকট ঘিরে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সহায়তা করতে চাইলেও বিজিবির নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সুরুজ মিয়া এবং নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম। সংকট নিরসনে শনিবার দুপুরেও বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আরেক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ দাবি করছে, আটকে পড়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হলেও আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফেরত পাঠাতে হবে। রাতের আঁধারে অনানুষ্ঠানিকভাবে কাউকে সীমান্তে ঠেলে দিলে তা গ্রহণ করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও মানুষগুলো খোলা মাঠে পড়ে আছে, যা অত্যন্ত অমানবিক। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আমাদের জানিয়েছে।

সমাধান না হওয়ায় সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে থাকা ১০ জনের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।