Dhaka ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পার্বতীপুরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৩ সোনাতলায় সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, মণ্ডল হোটেলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা মিঠাপুকুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা অভিযান মধ্যনগরে অনুমতি ছাড়াই দুই ড্রেজারে বালু উত্তোলনের অভিযোগ নন্দীগ্রামে কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, দানবাক্সের টাকা ও পূজার সামগ্রী চুরি স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণায় নিজের ছবি ব্যবহার না করার অনুরোধ এমপি কাজী রফিকুল ইসলামের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারে গাফিলতির অভিযোগ, এসআই প্রত্যাহার পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশনে ৫ কেজি গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার সোনাতলায় জমি বিরোধে হামলা, কুপিয়ে জখম ও ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পার্বতীপুরে গৃহবধূকে শাবল দিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেফতার

নন্দীগ্রামের সবুজ প্রান্তরে শামুকখোল পাখির ঝাঁক, মুগ্ধ স্থানীয়রা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:২৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ১৫৫ সময় দেখুন

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ ও জলাভূমিতে আবারও দেখা মিলেছে দুর্লভ প্রজাতির শামুকখোল পাখির। শত শত শামুকখোল পাখির কলরবে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ধান কাটা ফাঁকা মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে খাবার সংগ্রহ করছে পাখিগুলো।প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

গত রোববার সকালে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের রিধইল-সিধইল মাঠে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শামুকখোল পাখিকে একসঙ্গে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দিনের বেলায় আশপাশের জলাশয় ও কৃষিজমি থেকে শামুক, ব্যাঙ, ছোট মাছ, কাঁকড়া এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণী খেয়ে সন্ধ্যা হলে তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিধইল-সিধইল গ্রামের চারপাশের বাঁশবাগান, বট, পাকুড়, তেঁতুলসহ বিভিন্ন বড় গাছে বাসা বেঁধেছে পাখিগুলো। এছাড়া নন্দীগ্রাম, ফোকপাল ও কালিকাপুর মাঠসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও শামুকখোলের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। বিকেলের পর গাছের উঁচু ডালে শত শত পাখিকে পাশাপাশি বসে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, মণ্ডল হোটেলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

গ্রামবাসীরা জানান, ধূসর-সাদা রঙের এই পাখির ডানা বড় এবং ঠোঁট লম্বা ও মাঝখানে ফাঁকাযুক্ত। এ বিশেষ গঠনের ঠোঁটের সাহায্যে তারা সহজেই শামুকের খোল ভেঙে ভেতরের অংশ খেতে পারে। লেজ ও ডানার শেষভাগ কালো হওয়ায় দূর থেকেই শামুকখোল পাখিকে সহজে চেনা যায়। দেখতে অনেকটা বক পাখির মতো হলেও খাদ্যাভ্যাস ও আচরণে রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

পাখি বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, স্ত্রী ও পুরুষ শামুকখোল মিলে শুকনো ডাল, কাঠি, লতাপাতা ও ঘাস দিয়ে ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে বাসা তৈরি করে। জুলাই-আগস্ট মাসে তারা সাধারণত তিন থেকে পাঁচটি ডিম দেয় এবং প্রায় ২৫ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ছানাগুলো উড়তে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুনঃ  নন্দীগ্রামে কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, দানবাক্সের টাকা ও পূজার সামগ্রী চুরি

প্রায় ৮১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখির ঠোঁটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে এদের দেহ আরও উজ্জ্বল সাদা রঙ ধারণ করে। বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের জলাভূমিতে এদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পরিবেশ পেলে তারা দীর্ঘ সময় একই এলাকায় অবস্থান করে। খাদ্যের সংকট দেখা দিলে অন্যত্র চলে গেলেও অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে আবারও পূর্বের আবাসস্থলে ফিরে আসে।

আরও পড়ুনঃ  স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণায় নিজের ছবি ব্যবহার না করার অনুরোধ এমপি কাজী রফিকুল ইসলামের

স্থানীয়রা বলেন, প্রকৃতির এই অতিথি পাখিদের নিরাপদ আবাস ও খাদ্যসংস্থানের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আবাসস্থল সংরক্ষণ জরুরি। পরিবেশবিদদের মতে, শামুকখোল পাখির উপস্থিতি কোনো এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুস্থতার ইতিবাচক নির্দেশক।

বন বিভাগে নন্দীগ্রামে কর্মরত সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিযায়ী পাখিরা বিভিন্ন মৌসুমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে। যেখানে তারা নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাদ্য পায়, সেখানেই কয়েক মাস অবস্থান করে। তিনি জানান, রিধইল-সিধইল গ্রামে আশ্রয় নেওয়া এসব অতিথি পাখিকে যাতে কেউ বিরক্ত বা শিকার করতে না পারে, সে জন্য এলাকাটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পার্বতীপুরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৩

নন্দীগ্রামের সবুজ প্রান্তরে শামুকখোল পাখির ঝাঁক, মুগ্ধ স্থানীয়রা

আপডেটের সময়: ০৯:২৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ ও জলাভূমিতে আবারও দেখা মিলেছে দুর্লভ প্রজাতির শামুকখোল পাখির। শত শত শামুকখোল পাখির কলরবে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ধান কাটা ফাঁকা মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে খাবার সংগ্রহ করছে পাখিগুলো।প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

গত রোববার সকালে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের রিধইল-সিধইল মাঠে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শামুকখোল পাখিকে একসঙ্গে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দিনের বেলায় আশপাশের জলাশয় ও কৃষিজমি থেকে শামুক, ব্যাঙ, ছোট মাছ, কাঁকড়া এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণী খেয়ে সন্ধ্যা হলে তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিধইল-সিধইল গ্রামের চারপাশের বাঁশবাগান, বট, পাকুড়, তেঁতুলসহ বিভিন্ন বড় গাছে বাসা বেঁধেছে পাখিগুলো। এছাড়া নন্দীগ্রাম, ফোকপাল ও কালিকাপুর মাঠসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও শামুকখোলের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। বিকেলের পর গাছের উঁচু ডালে শত শত পাখিকে পাশাপাশি বসে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় জমি বিরোধে হামলা, কুপিয়ে জখম ও ৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

গ্রামবাসীরা জানান, ধূসর-সাদা রঙের এই পাখির ডানা বড় এবং ঠোঁট লম্বা ও মাঝখানে ফাঁকাযুক্ত। এ বিশেষ গঠনের ঠোঁটের সাহায্যে তারা সহজেই শামুকের খোল ভেঙে ভেতরের অংশ খেতে পারে। লেজ ও ডানার শেষভাগ কালো হওয়ায় দূর থেকেই শামুকখোল পাখিকে সহজে চেনা যায়। দেখতে অনেকটা বক পাখির মতো হলেও খাদ্যাভ্যাস ও আচরণে রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

পাখি বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, স্ত্রী ও পুরুষ শামুকখোল মিলে শুকনো ডাল, কাঠি, লতাপাতা ও ঘাস দিয়ে ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে বাসা তৈরি করে। জুলাই-আগস্ট মাসে তারা সাধারণত তিন থেকে পাঁচটি ডিম দেয় এবং প্রায় ২৫ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ছানাগুলো উড়তে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, মণ্ডল হোটেলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

প্রায় ৮১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখির ঠোঁটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে এদের দেহ আরও উজ্জ্বল সাদা রঙ ধারণ করে। বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের জলাভূমিতে এদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পরিবেশ পেলে তারা দীর্ঘ সময় একই এলাকায় অবস্থান করে। খাদ্যের সংকট দেখা দিলে অন্যত্র চলে গেলেও অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে আবারও পূর্বের আবাসস্থলে ফিরে আসে।

আরও পড়ুনঃ  স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণায় নিজের ছবি ব্যবহার না করার অনুরোধ এমপি কাজী রফিকুল ইসলামের

স্থানীয়রা বলেন, প্রকৃতির এই অতিথি পাখিদের নিরাপদ আবাস ও খাদ্যসংস্থানের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আবাসস্থল সংরক্ষণ জরুরি। পরিবেশবিদদের মতে, শামুকখোল পাখির উপস্থিতি কোনো এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুস্থতার ইতিবাচক নির্দেশক।

বন বিভাগে নন্দীগ্রামে কর্মরত সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিযায়ী পাখিরা বিভিন্ন মৌসুমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করে। যেখানে তারা নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাদ্য পায়, সেখানেই কয়েক মাস অবস্থান করে। তিনি জানান, রিধইল-সিধইল গ্রামে আশ্রয় নেওয়া এসব অতিথি পাখিকে যাতে কেউ বিরক্ত বা শিকার করতে না পারে, সে জন্য এলাকাটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।