Dhaka ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় ব্রি ধান ১০৩-এর ফসল কর্তন ও মাঠদিবস অনুষ্ঠিত বালুয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া, চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান এইচএসসি পরীক্ষায় সোনাতলার কলেজগুলোর বেহাল দশা, ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ অনুমতি ও জুতা খোলার বাধ্যবাধকতা নেই, জনবান্ধব উদ্যোগে প্রশংসিত বরুড়ার ইউএনও সোনাতলার ঘোড়াপীর রোডে ৩০০ মিটার আরসিসি ঢালাই কাজের উদ্বোধন পার্বতীপুরে কালভার্টের পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধের অভিযোগ, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে সোনাতলায় বিএনপির সমাবেশ আমরাও চাই হাসিনা আসুক, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়’—মীর শাহে আলম বগুড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, সারের সুষম বণ্টন ও জ্বালানি গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা সভা সোনাতলায় অনলাইন জুয়া, মাদক ও বাল্যবিবাহবিরোধী সমাবেশ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

সোনাতলায় ব্রি ধান ১০৩-এর ফসল কর্তন ও মাঠদিবস অনুষ্ঠিত

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় ব্রি ধান ১০৩-এর ফসল কর্তন ও মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার পৌর এলাকার পশ্চিম কামারপাড়ায় এ মাঠদিবসের আয়োজন করা হয়। নতুন জাতের ধানের ফলন, উৎপাদন সম্ভাবনা ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

পার্টনার প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় এবং উপজেলা কৃষি অফিসের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও) ড. মাহমুদা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক ও দোয়েল বীজ সোনাতলার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গোলাম সোবহানী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রি সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লায়লা ফেরদৌসী লিপি এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহিবুল ইসলাম। এ ছাড়া স্থানীয় কৃষক হেলাল উদ্দীনসহ এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  বালুয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া, চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, কৃষির উন্নয়নে আধুনিক ও উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষের বিকল্প নেই। কৃষকদের প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন জাত ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। ব্রি ধান ১০৩-এর মতো উন্নত জাতের ধান চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু ও কৃষকের চাহিদার উপযোগী জাত উদ্ভাবনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট নিরলসভাবে কাজ করছে। ব্রি ধান ১০৩ একটি সম্ভাবনাময় জাত। এ জাতের বৈশিষ্ট্য, ফলন এবং চাষাবাদের উপযোগিতা সম্পর্কে কৃষকদের সরাসরি মাঠপর্যায়ে ধারণা দেওয়া জরুরি। শুধু নতুন জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না, সেই জাতের সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কৃষকদের পরীক্ষিত ও অনুমোদিত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  এইচএসসি পরীক্ষায় সোনাতলার কলেজগুলোর বেহাল দশা, ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম সোবহানী বলেন, কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়াতে উন্নতমানের বীজ নির্বাচন ও সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো বীজের পাশাপাশি জমি প্রস্তুত, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ও রোগবালাই দমনে সচেতন হতে হবে। কৃষক পর্যায়ে নতুন জাতের ধানের ফলাফল তুলে ধরতে এ ধরনের মাঠদিবস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষকদের নতুন জাত সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা চাষাবাদে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বালুয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া, চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান

অনুষ্ঠানে ব্রি সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লায়লা ফেরদৌসী লিপি ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহিবুল ইসলাম ব্রি ধান ১০৩-এর বৈশিষ্ট্য, চাষাবাদ পদ্ধতি, পরিচর্যা এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় স্থানীয় কৃষক হেলাল উদ্দীনসহ কয়েকজন কৃষক তাঁদের চাষাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পরে অতিথি ও কৃষকদের উপস্থিতিতে ব্রি ধান ১০৩-এর পরীক্ষামূলক জমির ফসল কর্তন করা হয়। মাঠপর্যায়ে ধানের ফলন ও সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন উপস্থিত কৃষিবিদ ও কৃষকরা।

বক্তারা বলেন, কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং গবেষণালব্ধ নতুন জাতের সম্প্রসারণে এ ধরনের মাঠদিবস কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি মাঠে নতুন জাতের ধানের ফলাফল দেখতে ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।

Tag :

সোনাতলায় ব্রি ধান ১০৩-এর ফসল কর্তন ও মাঠদিবস অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় ব্রি ধান ১০৩-এর ফসল কর্তন ও মাঠদিবস অনুষ্ঠিত

আপডেটের সময়: ০৩:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় ব্রি ধান ১০৩-এর ফসল কর্তন ও মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার পৌর এলাকার পশ্চিম কামারপাড়ায় এ মাঠদিবসের আয়োজন করা হয়। নতুন জাতের ধানের ফলন, উৎপাদন সম্ভাবনা ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

পার্টনার প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় এবং উপজেলা কৃষি অফিসের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও) ড. মাহমুদা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক ও দোয়েল বীজ সোনাতলার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গোলাম সোবহানী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রি সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লায়লা ফেরদৌসী লিপি এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহিবুল ইসলাম। এ ছাড়া স্থানীয় কৃষক হেলাল উদ্দীনসহ এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  বালুয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া, চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, কৃষির উন্নয়নে আধুনিক ও উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষের বিকল্প নেই। কৃষকদের প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন জাত ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। ব্রি ধান ১০৩-এর মতো উন্নত জাতের ধান চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু ও কৃষকের চাহিদার উপযোগী জাত উদ্ভাবনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট নিরলসভাবে কাজ করছে। ব্রি ধান ১০৩ একটি সম্ভাবনাময় জাত। এ জাতের বৈশিষ্ট্য, ফলন এবং চাষাবাদের উপযোগিতা সম্পর্কে কৃষকদের সরাসরি মাঠপর্যায়ে ধারণা দেওয়া জরুরি। শুধু নতুন জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না, সেই জাতের সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কৃষকদের পরীক্ষিত ও অনুমোদিত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে অধিক ফলন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  এইচএসসি পরীক্ষায় সোনাতলার কলেজগুলোর বেহাল দশা, ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম সোবহানী বলেন, কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়াতে উন্নতমানের বীজ নির্বাচন ও সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো বীজের পাশাপাশি জমি প্রস্তুত, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ও রোগবালাই দমনে সচেতন হতে হবে। কৃষক পর্যায়ে নতুন জাতের ধানের ফলাফল তুলে ধরতে এ ধরনের মাঠদিবস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষকদের নতুন জাত সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা চাষাবাদে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বালুয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া, চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিজান

অনুষ্ঠানে ব্রি সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লায়লা ফেরদৌসী লিপি ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহিবুল ইসলাম ব্রি ধান ১০৩-এর বৈশিষ্ট্য, চাষাবাদ পদ্ধতি, পরিচর্যা এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় স্থানীয় কৃষক হেলাল উদ্দীনসহ কয়েকজন কৃষক তাঁদের চাষাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পরে অতিথি ও কৃষকদের উপস্থিতিতে ব্রি ধান ১০৩-এর পরীক্ষামূলক জমির ফসল কর্তন করা হয়। মাঠপর্যায়ে ধানের ফলন ও সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন উপস্থিত কৃষিবিদ ও কৃষকরা।

বক্তারা বলেন, কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং গবেষণালব্ধ নতুন জাতের সম্প্রসারণে এ ধরনের মাঠদিবস কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি মাঠে নতুন জাতের ধানের ফলাফল দেখতে ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।