Dhaka ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নন্দীগ্রামের সবুজ প্রান্তরে শামুকখোল পাখির ঝাঁক, মুগ্ধ স্থানীয়রা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ঠিকাদার কল্যান সমিতি ও মিনি ঠিকাদার কল্যান সমিতির যৌথ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত সুন্দরগঞ্জে টানা বর্ষণে সর্বস্বান্ত তরুণ উদ্যোক্তা, নষ্ট ৩০০ পেঁপে গাছ পার্বতীপুরে পূবালী ব্যাংকের ৩ দিনব্যাপী ফ্রি ক্যাশলেস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন মাদক কারবার বন্ধের দাবিতে পার্বতীপুরে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি প্রদান মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান এমপি কাজী রফিকুল ইসলামের পার্বতীপুরে মা-মেয়ে হত্যা, অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন সোনাতলায় প্রায় ৫ হাজার কৃষকের হাতে উঠছে কৃষিকার্ড, শুরু হয়েছে তালিকা প্রণয়নের কাজ পার্বতীপুরে পিতার শাবলের আঘাতে কিশোর নিহত, পিতা আটক বগুড়ায় কলোনি ব্যবসায়ী বণিক সমিতি গঠনে মতবিনিময় সভা, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

সুন্দরগঞ্জে টানা বর্ষণে সর্বস্বান্ত তরুণ উদ্যোক্তা, নষ্ট ৩০০ পেঁপে গাছ

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: কৃষিকেই আত্মনির্ভরতার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন এক তরুণ উদ্যোক্তা। চাকরির পেছনে না ছুটে ধারদেনা করে লিজ নেওয়া জমিতে গড়ে তুলেছিলেন বাণিজ্যিক পেঁপে বাগান। গাছে প্রচুর ফলও ধরেছিল। আর কিছুদিন পরই সেই ফল বিক্রি করে লাভের মুখ দেখার আশা ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জমিতে পানি জমে মুহূর্তেই ভেঙে গেছে তার সেই স্বপ্ন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া গ্রামের মৃত আব্দুল ছামাদের ছেলে আবু আখের ৩৫ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০টি পেঁপে গাছের একটি বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তোলেন। নিয়মিত পরিচর্যার ফলে গাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরে। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ৪০০টি গাছের মধ্যে প্রায় ৩০০টি নষ্ট হয়ে যায়। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা আবু আখের বলেন, “অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই বাগান করেছিলাম। গাছে ভালো ফল ধরেছিল। আর কয়েকদিন পরই বিক্রি শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে প্রায় সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন দেড় লাখ টাকার বিনিয়োগ কীভাবে তুলব, সেটাই বুঝতে পারছি না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় অনেক তরুণ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ ধরনের ক্ষতি নতুন উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। যোগাযোগ করলে অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হতো। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতার কারণে পেঁপে গাছের শিকড় দ্রুত পচে যায়, ফলে অল্প সময়েই পুরো বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বর্ষা মৌসুমে বাগানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

একটি পেঁপে বাগান শুধু ফসলের ক্ষেত নয়, একজন তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্ন, পরিশ্রম ও ভবিষ্যতের প্রতীক। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সেই স্বপ্ন আজ অনেকটাই ম্লান। এখন সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা আবু আখের।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নন্দীগ্রামের সবুজ প্রান্তরে শামুকখোল পাখির ঝাঁক, মুগ্ধ স্থানীয়রা

সুন্দরগঞ্জে টানা বর্ষণে সর্বস্বান্ত তরুণ উদ্যোক্তা, নষ্ট ৩০০ পেঁপে গাছ

আপডেটের সময়: ০২:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: কৃষিকেই আত্মনির্ভরতার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন এক তরুণ উদ্যোক্তা। চাকরির পেছনে না ছুটে ধারদেনা করে লিজ নেওয়া জমিতে গড়ে তুলেছিলেন বাণিজ্যিক পেঁপে বাগান। গাছে প্রচুর ফলও ধরেছিল। আর কিছুদিন পরই সেই ফল বিক্রি করে লাভের মুখ দেখার আশা ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জমিতে পানি জমে মুহূর্তেই ভেঙে গেছে তার সেই স্বপ্ন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া গ্রামের মৃত আব্দুল ছামাদের ছেলে আবু আখের ৩৫ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০টি পেঁপে গাছের একটি বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তোলেন। নিয়মিত পরিচর্যার ফলে গাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরে। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ৪০০টি গাছের মধ্যে প্রায় ৩০০টি নষ্ট হয়ে যায়। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা আবু আখের বলেন, “অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই বাগান করেছিলাম। গাছে ভালো ফল ধরেছিল। আর কয়েকদিন পরই বিক্রি শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে প্রায় সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন দেড় লাখ টাকার বিনিয়োগ কীভাবে তুলব, সেটাই বুঝতে পারছি না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় অনেক তরুণ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ ধরনের ক্ষতি নতুন উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। যোগাযোগ করলে অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হতো। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতার কারণে পেঁপে গাছের শিকড় দ্রুত পচে যায়, ফলে অল্প সময়েই পুরো বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বর্ষা মৌসুমে বাগানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

একটি পেঁপে বাগান শুধু ফসলের ক্ষেত নয়, একজন তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্ন, পরিশ্রম ও ভবিষ্যতের প্রতীক। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সেই স্বপ্ন আজ অনেকটাই ম্লান। এখন সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা আবু আখের।