Dhaka ০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ

নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা কত বাড়ল

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ সময় দেখুন

সংবাদ আজকাল রিপোর্ট: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এ প্রজ্ঞাপনে ২০টি গ্রেডে নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদে মূল বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

প্রজ্ঞাপনে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকরের কথা বলা হয়েছে।

১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন স্কেলের বর্ধিত মূল বেতনের **৪০ শতাংশ পাবেন। আর দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ।

এরপর ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে।

১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নতুন বেতনস্কেলের শতভাগ কার্যকর হবে।

এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য বেতন বকেয়া হিসেবে পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়বে।

বিদ্যমান নিট পেনশন ২০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি হলে বর্ধিত নিট পেনশনের ৪০ শতাংশ এবং ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে ৫০ শতাংশ হারে সুবিধা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ হবে। আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ বর্ধিত নিট পেনশন কার্যকর হবে।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও প্রজ্ঞাপন জারির আগের সময়ের প্রাপ্য নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যে হারে প্রাপ্য ছিল, তা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। নতুন নির্ধারিত হারে এসব ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে।

তবে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে আগের বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ সুবিধার অর্থ বকেয়া বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বহাল থাকবে।

চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতাও বয়সভেদে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এলাকাভেদে মূল বেতনের ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর হবে।

কর্মচারীদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রতি সন্তানের ক্ষেত্রে মাসে ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত একই গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বেতন আদেশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিসের (বেসামরিক কর্মী ছাড়া) সদস্য, পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, শিক্ষানবিশ, আউটসোর্সিং, দৈনিকভিত্তিক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

প্রজ্ঞাপনে নতুন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ অনলাইনে iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বগুড়ায় ফিলিং স্টেশনের গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ, আহত ৫

নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা কত বাড়ল

আপডেটের সময়: ০৩:০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবাদ আজকাল রিপোর্ট: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এ প্রজ্ঞাপনে ২০টি গ্রেডে নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদে মূল বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

প্রজ্ঞাপনে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকরের কথা বলা হয়েছে।

১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন স্কেলের বর্ধিত মূল বেতনের **৪০ শতাংশ পাবেন। আর দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন বর্ধিত বেতনের ৫০ শতাংশ।

এরপর ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডে ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে।

১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ নতুন বেতনস্কেলের শতভাগ কার্যকর হবে।

এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য বেতন বকেয়া হিসেবে পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়বে।

বিদ্যমান নিট পেনশন ২০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি হলে বর্ধিত নিট পেনশনের ৪০ শতাংশ এবং ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে ৫০ শতাংশ হারে সুবিধা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ হবে। আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ বর্ধিত নিট পেনশন কার্যকর হবে।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও প্রজ্ঞাপন জারির আগের সময়ের প্রাপ্য নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যে হারে প্রাপ্য ছিল, তা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। নতুন নির্ধারিত হারে এসব ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে।

তবে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে আগের বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ সুবিধার অর্থ বকেয়া বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বহাল থাকবে।

চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতাও বয়সভেদে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এলাকাভেদে মূল বেতনের ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর হবে।

কর্মচারীদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রতি সন্তানের ক্ষেত্রে মাসে ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত একই গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বেতন আদেশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিসের (বেসামরিক কর্মী ছাড়া) সদস্য, পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, শিক্ষানবিশ, আউটসোর্সিং, দৈনিকভিত্তিক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

প্রজ্ঞাপনে নতুন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ অনলাইনে iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।