Dhaka ০১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় ৩০০ টাকা হারানোকে কেন্দ্র করে মারধর, নিহত ১ পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে বিশেষ অভিযান বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বগুড়া মহানগর ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক কবির হোসেন মিলন সোনাতলায় প্রবাসীর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা সোনাতলা মহিলা কলেজে ছাত্রীদের মাঝে দুই শতাধিক গাছের চারা বিতরণ সোনাতলায় ৩৫ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেপ্তার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিও আটক সোনাতলায় উন্নয়নের ছোঁয়া, গোপাই শাহবাজপুরে সড়কের সিসি ঢালাই উদ্বোধন সারিয়াকান্দিতে ছাত্রদলের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন সোনাতলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদকসহ যুবক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট শুরু, ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে বিপর্যস্ত জনজীবন, ক্ষতিগ্রস্ত ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে কয়েকদিনের টানা ও থেমে থেমে হওয়া ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌর শহরসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে কৃষি খাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা। ইতোমধ্যে জেলার ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মোংলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বর্ষণে বাগেরহাট পৌর শহরের শালতলা, মুনিগঞ্জ, পৌরসভা এলাকা, কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজার, ফলপট্টি মোড়, মারিয়া পল্লী, সদর হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে বিশেষ অভিযান

কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী নয়ন দেব বলেন, ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টিতে কাঁচাবাজার ও পৌরসভার সামনের সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। অনেক দোকানে পানি ঢুকেছে। ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

মুনিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মুন্না ইসলাম বলেন, প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

রিকশাচালক খালেক হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলেই পৌরসভার সামনের সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মোটরচালিত রিকশার মোটর নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভাঙা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে রিকশারও ক্ষতি হয়। ফলে আয়ের বড় একটি অংশ মেরামতে ব্যয় করতে হয়।

অতিবৃষ্টিতে কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, জেলার ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা, মরিচ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি। দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে বিশেষ অভিযান

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার কোনো মাছের ঘের প্লাবিত হয়নি। তবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ঘের তলিয়ে যাওয়া বা মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে বিশেষ অভিযান

বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পৌরসভার ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি জমেছে। বৃষ্টি কমে গেলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

টানা বর্ষণে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায়ও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। তাদের দাবি, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নিয়মিত খাল-নালা পরিষ্কার এবং টেকসই জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলায় ৩০০ টাকা হারানোকে কেন্দ্র করে মারধর, নিহত ১

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে বিপর্যস্ত জনজীবন, ক্ষতিগ্রস্ত ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি

আপডেটের সময়: ০৭:২৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে কয়েকদিনের টানা ও থেমে থেমে হওয়া ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌর শহরসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে কৃষি খাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা। ইতোমধ্যে জেলার ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মোংলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বর্ষণে বাগেরহাট পৌর শহরের শালতলা, মুনিগঞ্জ, পৌরসভা এলাকা, কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজার, ফলপট্টি মোড়, মারিয়া পল্লী, সদর হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে বিশেষ অভিযান

কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী নয়ন দেব বলেন, ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টিতে কাঁচাবাজার ও পৌরসভার সামনের সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। অনেক দোকানে পানি ঢুকেছে। ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

মুনিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মুন্না ইসলাম বলেন, প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

রিকশাচালক খালেক হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলেই পৌরসভার সামনের সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মোটরচালিত রিকশার মোটর নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভাঙা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে রিকশারও ক্ষতি হয়। ফলে আয়ের বড় একটি অংশ মেরামতে ব্যয় করতে হয়।

অতিবৃষ্টিতে কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, জেলার ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা, মরিচ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি। দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে বিশেষ অভিযান

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার কোনো মাছের ঘের প্লাবিত হয়নি। তবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ঘের তলিয়ে যাওয়া বা মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে বিশেষ অভিযান

বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পৌরসভার ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি জমেছে। বৃষ্টি কমে গেলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

টানা বর্ষণে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায়ও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। তাদের দাবি, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নিয়মিত খাল-নালা পরিষ্কার এবং টেকসই জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।