Dhaka ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও কাজ বন্ধের হুমকির অভিযোগ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সোনাতলা পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা আধুনিক মহানগর গড়তে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ১,৪১৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা সারিয়াকান্দিতে ক্রীড়া সামগ্রী ও পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ, হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম পার্বতীপুর প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি রিপন, সম্পাদক মামুন পার্বতীপুরে মেলায় লটারির নামে জুয়া ও অশ্লীলতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের দাবিতে মানববন্ধন দুই কিডনি বিকল ছাত্রদল নেতার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম বগুড়ায় জর্জ কোর্ট চত্বর থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকার জাল নোটসহ আটক ১ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা: ইসি

আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার রায়, দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ নিহত শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে। যদি আসামিরা জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহলে কালেক্টরেট অফিস তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির মাধ্যমে সেই অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তিনি। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে ওই দিন থেকেই ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত থাকে। ছুটি শেষে গত ১ জুন মামলার চার্জগঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু করেন আদালত।

পরদিন ২ জুন মামলার ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন ও অন্যান্য স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

স্বল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে রবিবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুই আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

আলোচিত এ মামলার দ্রুত তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও কাজ বন্ধের হুমকির অভিযোগ

আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার রায়, দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

আপডেটের সময়: ০১:০৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ নিহত শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে। যদি আসামিরা জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহলে কালেক্টরেট অফিস তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির মাধ্যমে সেই অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তিনি। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে ওই দিন থেকেই ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত থাকে। ছুটি শেষে গত ১ জুন মামলার চার্জগঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু করেন আদালত।

পরদিন ২ জুন মামলার ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন ও অন্যান্য স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

স্বল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে রবিবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুই আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।

আলোচিত এ মামলার দ্রুত তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।