
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া: ২৫ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা বাক ও শ্রবণ-প্রতিবন্ধী রুবি বেগম (ওহেদা বেগম)-এর হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে শহরের সাতমাথা এলাকায় বগুড়া মূক-বধির সংঘের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বগুড়া মূক-বধির সংঘের সভাপতি অ্যাডভোকেট রায়হান আহম্মেদ রানা, কোষাধ্যক্ষ ইমামুল হাসান, নির্বাহী সদস্য আরিফুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা রুবি বেগম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা জানান, ২০০১-২০০২ সালের দিকে গাবতলী উপজেলার ধোন শাতঘটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন বাক ও শ্রবণ-প্রতিবন্ধী রুবি বেগম। এরপর কয়েক বছর ধরে পরিবার ও স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে তারা তাকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা রুবিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি নরসিংদীর মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তিনি রুবি বেগম নামে পরিচিত থাকলেও তার প্রকৃত নাম ছিল ওহেদা বেগম।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ ২৫ বছর পর রুবির সন্ধান মিললেও জানা যায়, সামান্য কিছু টাকার লোভে দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। পরিবারের তথ্যমতে, রুবির এক বড় ভাইসহ প্রায় ২০ সদস্যের যৌথ পরিবারের ১৮ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বর্তমানে তার নিকটাত্মীয় বলার মতো প্রায় কেউই বেঁচে নেই।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন বাক ও শ্রবণ-প্রতিবন্ধী অসহায় নারীর ওপর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
প্রতিবেদকের নাম 

















