Dhaka ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা চাঁদাবাজ-দখলদারদের যায়গা বিএনপিতে নেই মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় আজহারীর দোয়া, ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ সারিয়াকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আটক ৩ বগুড়ায় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে শহীদ পরিবার সোসাইটির স্মরণসভা

সোনাতলা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও কাজ বন্ধের হুমকির অভিযোগ

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: চরমে উঠেছে সোনাতলা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু শাহীনের অশালীন আচরণ। কথায় কথায় এখন তিনি দিচ্ছেন টেন্ডার হওয়া কাজ বন্ধের হুমকি। আহ্বান জানাচ্ছেন দাবি আদায়ে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ যতো আন্দোলন আছে সেগুলো করার। সাথে এও জানাচ্ছেন, ‘এগুলো করলেও কোন লাভ হবে না, সংশ্লিষ্ট সড়কটির কোন কাজই আর করা হবে না। কিভাবে হয় করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ জুলাই, সোমবার সোনাতলা পৌর ভবনে। এদিন নির্ধারিত ছিল সোনাতলা পৌরসভার বাজেট ঘোষণার  দিন। বাজেট ঘোষণার আগে পৌরসভার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রস্তাবনা বিষয়ে কথা বলেন স্থানীয় নাগরিকেরা। এ সময় পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আগুনিয়াতাইড় গ্রামের মাস্টারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও সাংবাদিক ইকবাল কবির লেমন দীর্ঘদিনেও সোনাতলা পৌরসভার যে সকল টেন্ডার হওয়া সড়কের কাজ সমাপ্ত হয়নি জনদুর্ভোগ কমাতে সে সকল সড়ক দ্রুত শেষ করতে পৌর কর্তপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। পরে তিনি বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠান শেষে জনস্বার্থে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আগুনিয়াতাইড় গ্রামের মাস্টারপাড়া-হাসপাতাল সড়কটির কাজ দ্রুত শেষ করতে পৌর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু শাহীনের কক্ষে গিয়ে বিনীতভাবে তার সহযোগিতা চাইলে তিনি রাগান্বিত হয়ে উচ্চস্বরে তাঁর সাথে কথা বলেন এবং কাজ না করার হুমকি দেন। সাথে সাথে মুঠোফোনে বিষয়টি পৌর প্রশাসক ও সহকারী প্রকৌশলীকে জানান সাংবাদিক ইকবাল কবির লেমন। তাঁরা বলেন, বিষয়টি দেখছি।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের জনদাবির মুখে যান ও জনচলাচলের অনুপোযোগী পূর্বের ফ্ল্যাট সোলিং সড়কটি ২০২৪ সালে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সোনাতলা পৌরসভা। সেই অনুযায়ী ‘লোকাল গভর্ণমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) প্রোজেক্ট’ এর আওতায় মাস্টারপাড়া আরসিসি সড়ক হতে সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত রেল লাইনের পশ্চিম পাশ দিয়ে ৮৩ লাখ, ১৩ হাজার, ৭শ’ ৬৫.১২৫ টাকায় কাজটির ঠিকাদারি পায় সালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেড। ০৩-০৫-২০২৫ হতে ০২-০৫-২০২৬ তারিখের মধ্যে ইউনিব্লকের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সড়কটি খুড়ে ইট অপসারণ, ৩ টি ইউ ড্রেন নির্মাণ, দুইটি দিঘীরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ খোয়া বিছানো ছাড়া মূল কাজের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। ইটের খোয়া বিছালেও তা রোলিং না করায় সড়কটি আরও চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহনে ও চলাচলের ক্ষেত্রে চরম বিড়ম্বনা পোহাচ্ছে মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত যোগাযোগে অসুবিধার মুখে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও সময়মতো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রে পড়ছে দুর্ভোগে।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার সালেক উদ্দিনকে যতোবার অনুরোধ করা হয়েছে ততবারই তিনি দ্রুত কাজটি শেষ হবে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৬ সালের জুন মাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনের মুখে মানববন্ধনের দিন থেকেই লোকদেখানো কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। সেই সময় সোনাতলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, ভাই একমাসের মধ্যে সড়কটির অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে। কোন কথা থাকলে অনুগ্রহপূর্বক আমকে বলবেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

এ বিষয়ে সোনাতলা পৌর প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সাংবাদিক ইকবাল কবির লেমন বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে বসবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ভুক্তভোগী নাগরিকগণ যা অচিরেই বাস্তবায়ন হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

সোনাতলা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও কাজ বন্ধের হুমকির অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৪:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: চরমে উঠেছে সোনাতলা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু শাহীনের অশালীন আচরণ। কথায় কথায় এখন তিনি দিচ্ছেন টেন্ডার হওয়া কাজ বন্ধের হুমকি। আহ্বান জানাচ্ছেন দাবি আদায়ে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ যতো আন্দোলন আছে সেগুলো করার। সাথে এও জানাচ্ছেন, ‘এগুলো করলেও কোন লাভ হবে না, সংশ্লিষ্ট সড়কটির কোন কাজই আর করা হবে না। কিভাবে হয় করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ জুলাই, সোমবার সোনাতলা পৌর ভবনে। এদিন নির্ধারিত ছিল সোনাতলা পৌরসভার বাজেট ঘোষণার  দিন। বাজেট ঘোষণার আগে পৌরসভার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রস্তাবনা বিষয়ে কথা বলেন স্থানীয় নাগরিকেরা। এ সময় পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আগুনিয়াতাইড় গ্রামের মাস্টারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও সাংবাদিক ইকবাল কবির লেমন দীর্ঘদিনেও সোনাতলা পৌরসভার যে সকল টেন্ডার হওয়া সড়কের কাজ সমাপ্ত হয়নি জনদুর্ভোগ কমাতে সে সকল সড়ক দ্রুত শেষ করতে পৌর কর্তপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। পরে তিনি বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠান শেষে জনস্বার্থে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আগুনিয়াতাইড় গ্রামের মাস্টারপাড়া-হাসপাতাল সড়কটির কাজ দ্রুত শেষ করতে পৌর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু শাহীনের কক্ষে গিয়ে বিনীতভাবে তার সহযোগিতা চাইলে তিনি রাগান্বিত হয়ে উচ্চস্বরে তাঁর সাথে কথা বলেন এবং কাজ না করার হুমকি দেন। সাথে সাথে মুঠোফোনে বিষয়টি পৌর প্রশাসক ও সহকারী প্রকৌশলীকে জানান সাংবাদিক ইকবাল কবির লেমন। তাঁরা বলেন, বিষয়টি দেখছি।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের জনদাবির মুখে যান ও জনচলাচলের অনুপোযোগী পূর্বের ফ্ল্যাট সোলিং সড়কটি ২০২৪ সালে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সোনাতলা পৌরসভা। সেই অনুযায়ী ‘লোকাল গভর্ণমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি) প্রোজেক্ট’ এর আওতায় মাস্টারপাড়া আরসিসি সড়ক হতে সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত রেল লাইনের পশ্চিম পাশ দিয়ে ৮৩ লাখ, ১৩ হাজার, ৭শ’ ৬৫.১২৫ টাকায় কাজটির ঠিকাদারি পায় সালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেড। ০৩-০৫-২০২৫ হতে ০২-০৫-২০২৬ তারিখের মধ্যে ইউনিব্লকের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সড়কটি খুড়ে ইট অপসারণ, ৩ টি ইউ ড্রেন নির্মাণ, দুইটি দিঘীরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ খোয়া বিছানো ছাড়া মূল কাজের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। ইটের খোয়া বিছালেও তা রোলিং না করায় সড়কটি আরও চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহনে ও চলাচলের ক্ষেত্রে চরম বিড়ম্বনা পোহাচ্ছে মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত যোগাযোগে অসুবিধার মুখে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও সময়মতো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রে পড়ছে দুর্ভোগে।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার সালেক উদ্দিনকে যতোবার অনুরোধ করা হয়েছে ততবারই তিনি দ্রুত কাজটি শেষ হবে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৬ সালের জুন মাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনের মুখে মানববন্ধনের দিন থেকেই লোকদেখানো কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। সেই সময় সোনাতলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, ভাই একমাসের মধ্যে সড়কটির অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে। কোন কথা থাকলে অনুগ্রহপূর্বক আমকে বলবেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার

এ বিষয়ে সোনাতলা পৌর প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সাংবাদিক ইকবাল কবির লেমন বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে বসবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ভুক্তভোগী নাগরিকগণ যা অচিরেই বাস্তবায়ন হবে।