Dhaka ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদকসহ যুবক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট শুরু, ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য লিখিত ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের পর সোনাতলা রেলস্টেশনে কাজে ফিরলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বগুড়ায় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবার মৃত্যুদণ্ড বগুড়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, জালাল গ্রুপের ১১জন গ্রেপ্তার বগুড়ার সোনাতলায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রেলস্টেশনে হামলার অভিযোগ পার্বতীপুরে সন্তান নিয়ে দাম্পত্য বিরোধ তুঙ্গে, হুমকি-ভয়ভীতির অভিযোগে দিশেহারা স্বামী সোনাতলার বালুয়াহাট স্ট্যান্ড আঞ্চলিক অটোরিক্সা-ভ্যান শ্রমিক দলের কমিটি ঘোষণা সোনাতলায় ব্র্যাকের বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ক্যাম্প, চিকিৎসা পেলেন ৫৪৫ জন সোনাতলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগে পার্বতীপুরে মানববন্ধন

মহসিন আলী, পার্বতীপুর (দিনাজপুর): দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় বসতবাড়ি দখল, ভাঙচুর, লুটপাট, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার পূর্ব হুগলীপাড়া গ্রামে মোতাহারা বেগমের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে মোতাহারা বেগম অভিযোগ করেন, ১১৯ নম্বর এস.এ. খতিয়ানভুক্ত পৈতৃক সম্পত্তির মূল মালিক নছির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুর পর তার কন্যা নছিমন খাতুন (মোতাহারা বেগমের শাশুড়ি) ওয়ারিশ সূত্রে সম্পত্তির মালিক হন। পরে ২৭ মার্চ ২০২২ তারিখে ২৫৩৭ নম্বর হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের মাধ্যমে নজরুল ইসলাম ৬৮৫৪ নম্বর দাগে ৬ শতক জমির মালিকানা লাভ করেন। এর আগে ২৩ মার্চ ২০০৬ তারিখে ১৮৩৩ নম্বর হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের মাধ্যমে একই দাগে আবদুল ওয়াহেদ সরকারের কাছ থেকে আরও ২ শতক জমি অর্জন করা হয়। সব মিলিয়ে ৮ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখলে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে নুরুল আমিন স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সহায়তায় ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এ সময় পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

তাদের আরও অভিযোগ, নুরুল আমিন প্রাচীর নির্মাণ করে পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে প্রায় তিন বছর ধরে তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাস করছেন এবং ঘরের পেছনের জানালা দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ ঘটনার প্রতিকার এবং চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করার দাবিতে গত ২৯ জুন পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন পার্বতীপুর উপজেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুবি বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের চলাচলের রাস্তা দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি নিয়ম মেনে জমি ক্রয় করেছি। এটি আমার কেনা জমি। তাই আমার জমির সীমানার মধ্যেই প্রাচীর নির্মাণ করেছি।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদকসহ যুবক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগে পার্বতীপুরে মানববন্ধন

আপডেটের সময়: ০৩:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

মহসিন আলী, পার্বতীপুর (দিনাজপুর): দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় বসতবাড়ি দখল, ভাঙচুর, লুটপাট, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার পূর্ব হুগলীপাড়া গ্রামে মোতাহারা বেগমের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে মোতাহারা বেগম অভিযোগ করেন, ১১৯ নম্বর এস.এ. খতিয়ানভুক্ত পৈতৃক সম্পত্তির মূল মালিক নছির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুর পর তার কন্যা নছিমন খাতুন (মোতাহারা বেগমের শাশুড়ি) ওয়ারিশ সূত্রে সম্পত্তির মালিক হন। পরে ২৭ মার্চ ২০২২ তারিখে ২৫৩৭ নম্বর হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের মাধ্যমে নজরুল ইসলাম ৬৮৫৪ নম্বর দাগে ৬ শতক জমির মালিকানা লাভ করেন। এর আগে ২৩ মার্চ ২০০৬ তারিখে ১৮৩৩ নম্বর হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের মাধ্যমে একই দাগে আবদুল ওয়াহেদ সরকারের কাছ থেকে আরও ২ শতক জমি অর্জন করা হয়। সব মিলিয়ে ৮ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখলে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে নুরুল আমিন স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সহায়তায় ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এ সময় পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

তাদের আরও অভিযোগ, নুরুল আমিন প্রাচীর নির্মাণ করে পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে প্রায় তিন বছর ধরে তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় বসবাস করছেন এবং ঘরের পেছনের জানালা দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ ঘটনার প্রতিকার এবং চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করার দাবিতে গত ২৯ জুন পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন পার্বতীপুর উপজেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুবি বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের চলাচলের রাস্তা দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি নিয়ম মেনে জমি ক্রয় করেছি। এটি আমার কেনা জমি। তাই আমার জমির সীমানার মধ্যেই প্রাচীর নির্মাণ করেছি।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।