Dhaka ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রংপুরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আধুনিক কসাইখানা, চলছে পরীক্ষামূলক জবাই বগুড়ায় ৫ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বিরোধী অভিযানে হামলা, ইউএনও-ওসিসহ আহত ১৫ ১৫ দিনেও মেলেনি এনজিও কর্মীর সন্ধান, মানববন্ধনে স্ত্রীর আহাজারি ছাগলে শাক খাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮ পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের অভিযান, আটক ১ টিকটক তারকা নয়, বানাতে চেয়েছিল যৌনকর্মী— ফরিদপুরে পাচারকারীর জেল মোকামতলায় ২ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার সোনাতলা পৌরসভায় ৫২ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজে ঠিকাদার নির্বাচন, অনলাইনে উন্মুক্ত লটারি অনুষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদে সোনাতলায় ফারিয়ার মানববন্ধন

রংপুরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আধুনিক কসাইখানা, চলছে পরীক্ষামূলক জবাই

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: রংপুর মহানগরবাসীর জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করেছে রংপুর সিটি করপোরেশন। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নগরীর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কসাইখানা এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে পশু জবাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কসাইখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে খোলা স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাইয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ উদ্যোগ।

রসিক সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক এই কসাইখানায় পশু জবাইয়ের জন্য পৃথক ইউনিট, উন্নত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, জীবাণুনাশক সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে। এছাড়া পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে অসুস্থ পশুর মাংস বাজারে আসার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রহমান বলেন, “বাজারে অনেক সময় খুবই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই করা হয়। এতে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং পরিবেশ নষ্ট হয়। আধুনিক কসাইখানা চালু হলে মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাবে এবং বাজারও পরিষ্কার থাকবে।

নগরীর দর্শনা এলাকার বাসিন্দা নুরনাহার বানু বলেন, “বর্তমানে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে মানুষ অনেক সচেতন। আধুনিক কসাইখানা চালু হলে আমরা নিশ্চিন্তে মাংস কিনতে পারব। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।

আরও পড়ুনঃ  মোকামতলায় ২ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

শাপলা চত্বর এলাকার বাসিন্দা ফাহিম মুরশেদ বলেন, “দেরিতে হলেও সিটি করপোরেশন একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। এতদিন সিটির বিভিন্ন স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করা হতো। কোথাও কোথাও অসুস্থ পশুও জবাই করা হতো। আধুনিক কসাইখানা চালু হলে এ ধরনের অনিয়ম কমবে।” তিনি বিতর্ক এড়াতে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী জবাই কার্যক্রম পরিচালনার দাবিও জানান।

সম্প্রতি প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন রসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন। এসময় তিনি কসাইখানার বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ আনন্দে বাড়তি অবকাশ, স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিনের ছুটি

রসিক প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন বলেন, “পরীক্ষামূলকভাবে এই কসাইখানায় পশু জবাই কার্যক্রম চলছে। ঠিকাদার নিয়োগ, পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে খুব দ্রুত এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হুদা বলেন, “দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানার বিকল্প নেই। উন্নত দেশগুলোর মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা চালু করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। রংপুরের এই প্রকল্প সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রংপুরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আধুনিক কসাইখানা, চলছে পরীক্ষামূলক জবাই

রংপুরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আধুনিক কসাইখানা, চলছে পরীক্ষামূলক জবাই

আপডেটের সময়: ০৪:২৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: রংপুর মহানগরবাসীর জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করেছে রংপুর সিটি করপোরেশন। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নগরীর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কসাইখানা এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে পশু জবাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কসাইখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে খোলা স্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাইয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ উদ্যোগ।

রসিক সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক এই কসাইখানায় পশু জবাইয়ের জন্য পৃথক ইউনিট, উন্নত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, জীবাণুনাশক সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে। এছাড়া পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে অসুস্থ পশুর মাংস বাজারে আসার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদে সোনাতলায় ফারিয়ার মানববন্ধন

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রহমান বলেন, “বাজারে অনেক সময় খুবই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু জবাই করা হয়। এতে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং পরিবেশ নষ্ট হয়। আধুনিক কসাইখানা চালু হলে মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পাবে এবং বাজারও পরিষ্কার থাকবে।

নগরীর দর্শনা এলাকার বাসিন্দা নুরনাহার বানু বলেন, “বর্তমানে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে মানুষ অনেক সচেতন। আধুনিক কসাইখানা চালু হলে আমরা নিশ্চিন্তে মাংস কিনতে পারব। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ আনন্দে বাড়তি অবকাশ, স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিনের ছুটি

শাপলা চত্বর এলাকার বাসিন্দা ফাহিম মুরশেদ বলেন, “দেরিতে হলেও সিটি করপোরেশন একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। এতদিন সিটির বিভিন্ন স্থানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই করা হতো। কোথাও কোথাও অসুস্থ পশুও জবাই করা হতো। আধুনিক কসাইখানা চালু হলে এ ধরনের অনিয়ম কমবে।” তিনি বিতর্ক এড়াতে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী জবাই কার্যক্রম পরিচালনার দাবিও জানান।

সম্প্রতি প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন রসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন। এসময় তিনি কসাইখানার বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  ছাগলে শাক খাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮

রসিক প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন বলেন, “পরীক্ষামূলকভাবে এই কসাইখানায় পশু জবাই কার্যক্রম চলছে। ঠিকাদার নিয়োগ, পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে খুব দ্রুত এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হুদা বলেন, “দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানার বিকল্প নেই। উন্নত দেশগুলোর মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা চালু করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। রংপুরের এই প্রকল্প সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা