
সংবাদ আজকাল নিউজ: বগুড়ায় নারী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা জুতাপেটার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে দলের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশও দিয়েছে দল।
অব্যাহতি পাওয়া ওই নেতার নাম আলী আজম সাব্বির। তিনি এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা সমন্বয় টিমের সমন্বয়কারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শুক্রবার রাতে এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি জানানো হয়।
জানা গেছে, আলী আজম সাব্বির বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্সের একজন প্রশিক্ষণার্থী। একই প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নেওয়া একাধিক নারী প্রশিক্ষণার্থীর অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর কথাবার্তা বলতেন। পাশাপাশি তাঁদের ফোনে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বার্তা পাঠাতেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন আচরণে বিরক্ত ও বিব্রত ছিলেন কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থী।
অভিযোগের একপর্যায়ে গত ২৪ মে দুপুরে কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থী তাঁকে টিটিসির একটি কক্ষে আটকে জবাবদিহির মুখোমুখি করেন। এ সময় এক নারী প্রশিক্ষণার্থী তাঁকে জুতাপেটা করেন। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
টিটিসির ড্রাইভিং প্রশিক্ষক রাশেদুল হাসান বলেন, নারী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। পরে আলী আজম সাব্বির নিজের ভুল স্বীকার করে লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠান খোলার পর একাডেমি কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান বলেন, অভিযোগ সামনে আসার পরপরই দল বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আলী আজম সাব্বিরকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে তিন দিনের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক দলের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সবার।
প্রতিবেদকের নাম 


















