Dhaka ১২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা চাঁদাবাজ-দখলদারদের যায়গা বিএনপিতে নেই মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় আজহারীর দোয়া, ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ সারিয়াকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আটক ৩ বগুড়ায় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে শহীদ পরিবার সোসাইটির স্মরণসভা

কুরবানীর গোস্ত আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন সদরপুরের মৎস্যজীবী আব্দুস সাত্তার

সংবাদ আজকাল নিউজ: পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার একটি পরিবারের জন্য। কুরবানীর গোস্ত আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া মোল্লাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় মৎস্যজীবী আব্দুস সাত্তার।

বৃহস্পতিবার (ঈদুল আজহার দিন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পদ্মা সেতুর নাওডুবা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার ঈদের নামাজ আদায় শেষে নিজ জন্মভূমি শরীয়তপুরে কুরবানীর গোস্ত আনতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেন। পথে নাওডুবা স্ট্যান্ডে বাস থেকে নামার সময় হঠাৎ বাসের ঝাঁকুনিতে তিনি গেট দিয়ে বাইরে পড়ে যান। পরে বাসের পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম শুরু হয়। নিহত আব্দুস সাত্তারের পরিবারে স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তার মেয়ের জামাতা মাওলানা রেজাউল করীম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, আব্দুস সাত্তার ছিলেন সাত ভাইয়ের মধ্যে বড়। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সদরপুরে বসবাস করলেও তার অন্য ভাইরা শরীয়তপুরে থাকেন। ঈদের রাতে শরীয়তপুর থেকে কুরবানীর গোস্ত আনার জন্য তাকে ফোন করা হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যেই সকালে রওনা দেন তিনি। কিন্তু পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

বাদ মাগরিব স্থানীয় মোল্লাবাড়ী জামে মসজিদ মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা মুফতী বোর্ড ও বাংলাদেশ ইসলামী জনকল্যাণ ফাউণ্ডেশনের সভাপতি মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী, উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার, মাওলানা মোখতার হুসাইন, মাওলানা মিরাজুল ইসলাম এবং ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয়রা সড়কে যাত্রী ওঠানামার সময় আরও সতর্কতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

কুরবানীর গোস্ত আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন সদরপুরের মৎস্যজীবী আব্দুস সাত্তার

আপডেটের সময়: ০৯:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সংবাদ আজকাল নিউজ: পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হলো ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার একটি পরিবারের জন্য। কুরবানীর গোস্ত আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া মোল্লাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় মৎস্যজীবী আব্দুস সাত্তার।

বৃহস্পতিবার (ঈদুল আজহার দিন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পদ্মা সেতুর নাওডুবা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার ঈদের নামাজ আদায় শেষে নিজ জন্মভূমি শরীয়তপুরে কুরবানীর গোস্ত আনতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেন। পথে নাওডুবা স্ট্যান্ডে বাস থেকে নামার সময় হঠাৎ বাসের ঝাঁকুনিতে তিনি গেট দিয়ে বাইরে পড়ে যান। পরে বাসের পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম শুরু হয়। নিহত আব্দুস সাত্তারের পরিবারে স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তার মেয়ের জামাতা মাওলানা রেজাউল করীম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, আব্দুস সাত্তার ছিলেন সাত ভাইয়ের মধ্যে বড়। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে সদরপুরে বসবাস করলেও তার অন্য ভাইরা শরীয়তপুরে থাকেন। ঈদের রাতে শরীয়তপুর থেকে কুরবানীর গোস্ত আনার জন্য তাকে ফোন করা হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যেই সকালে রওনা দেন তিনি। কিন্তু পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

বাদ মাগরিব স্থানীয় মোল্লাবাড়ী জামে মসজিদ মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা মুফতী বোর্ড ও বাংলাদেশ ইসলামী জনকল্যাণ ফাউণ্ডেশনের সভাপতি মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী, উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার, মাওলানা মোখতার হুসাইন, মাওলানা মিরাজুল ইসলাম এবং ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয়রা সড়কে যাত্রী ওঠানামার সময় আরও সতর্কতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।