Dhaka ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা চাঁদাবাজ-দখলদারদের যায়গা বিএনপিতে নেই মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় আজহারীর দোয়া, ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ সারিয়াকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আটক ৩ বগুড়ায় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে শহীদ পরিবার সোসাইটির স্মরণসভা

তিন বছরেও চালু হয়নি ইসলামপুরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, সেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ

সংবাদ আজকাল নিউজ: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি উপজেলার একমাত্র ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি ২০২৪ সালে সম্পন্ন হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে ভবনটি এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে রোগীদের জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুসমিতা দত্ত বলেন, “আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ করেছে। বর্তমানে একজন ভিজিটর কর্মরত আছেন। তবে ভবনটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এটি উদ্বোধন করা হবে।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সরুফা বেগমের স্বজনরা বলেন, “রোগীকে সিজার করানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে জামালপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু থাকলে এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও শয্যা ও চিকিৎসক—দুটোরই সংকট রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এ. এম. আবু তাহের বলেন, “যদিও প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সরাসরি দায়িত্বাধীন নয়, তবে এটি চালু হলে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার মান অনেক উন্নত হবে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রবেষ্টিত ইসলামপুর উপজেলার বাসিন্দারা দ্রুত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, শিশু ও প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়া মানেই জীবনের ঝুঁকি বাড়ানো। তাই জনস্বার্থে দ্রুত কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

তিন বছরেও চালু হয়নি ইসলামপুরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, সেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ

আপডেটের সময়: ০৪:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সংবাদ আজকাল নিউজ: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি উপজেলার একমাত্র ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি ২০২৪ সালে সম্পন্ন হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে ভবনটি এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে রোগীদের জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুসমিতা দত্ত বলেন, “আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ করেছে। বর্তমানে একজন ভিজিটর কর্মরত আছেন। তবে ভবনটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এটি উদ্বোধন করা হবে।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সরুফা বেগমের স্বজনরা বলেন, “রোগীকে সিজার করানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে জামালপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু থাকলে এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও শয্যা ও চিকিৎসক—দুটোরই সংকট রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এ. এম. আবু তাহের বলেন, “যদিও প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সরাসরি দায়িত্বাধীন নয়, তবে এটি চালু হলে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার মান অনেক উন্নত হবে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রবেষ্টিত ইসলামপুর উপজেলার বাসিন্দারা দ্রুত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, শিশু ও প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়া মানেই জীবনের ঝুঁকি বাড়ানো। তাই জনস্বার্থে দ্রুত কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।