Dhaka ০১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নন্দীগ্রামের সবুজ প্রান্তরে শামুকখোল পাখির ঝাঁক, মুগ্ধ স্থানীয়রা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ঠিকাদার কল্যান সমিতি ও মিনি ঠিকাদার কল্যান সমিতির যৌথ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত সুন্দরগঞ্জে টানা বর্ষণে সর্বস্বান্ত তরুণ উদ্যোক্তা, নষ্ট ৩০০ পেঁপে গাছ পার্বতীপুরে পূবালী ব্যাংকের ৩ দিনব্যাপী ফ্রি ক্যাশলেস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন মাদক কারবার বন্ধের দাবিতে পার্বতীপুরে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি প্রদান মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান এমপি কাজী রফিকুল ইসলামের পার্বতীপুরে মা-মেয়ে হত্যা, অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন সোনাতলায় প্রায় ৫ হাজার কৃষকের হাতে উঠছে কৃষিকার্ড, শুরু হয়েছে তালিকা প্রণয়নের কাজ পার্বতীপুরে পিতার শাবলের আঘাতে কিশোর নিহত, পিতা আটক বগুড়ায় কলোনি ব্যবসায়ী বণিক সমিতি গঠনে মতবিনিময় সভা, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

তিন বছরেও চালু হয়নি ইসলামপুরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, সেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ

সংবাদ আজকাল নিউজ: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি উপজেলার একমাত্র ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি ২০২৪ সালে সম্পন্ন হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে ভবনটি এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে রোগীদের জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুসমিতা দত্ত বলেন, “আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ করেছে। বর্তমানে একজন ভিজিটর কর্মরত আছেন। তবে ভবনটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এটি উদ্বোধন করা হবে।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সরুফা বেগমের স্বজনরা বলেন, “রোগীকে সিজার করানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে জামালপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু থাকলে এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও শয্যা ও চিকিৎসক—দুটোরই সংকট রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এ. এম. আবু তাহের বলেন, “যদিও প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সরাসরি দায়িত্বাধীন নয়, তবে এটি চালু হলে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার মান অনেক উন্নত হবে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রবেষ্টিত ইসলামপুর উপজেলার বাসিন্দারা দ্রুত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, শিশু ও প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়া মানেই জীবনের ঝুঁকি বাড়ানো। তাই জনস্বার্থে দ্রুত কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নন্দীগ্রামের সবুজ প্রান্তরে শামুকখোল পাখির ঝাঁক, মুগ্ধ স্থানীয়রা

তিন বছরেও চালু হয়নি ইসলামপুরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, সেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ

আপডেটের সময়: ০৪:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সংবাদ আজকাল নিউজ: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি উপজেলার একমাত্র ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি ২০২৪ সালে সম্পন্ন হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে ভবনটি এখনো স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে রোগীদের জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

ইসলামপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুসমিতা দত্ত বলেন, “আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ করেছে। বর্তমানে একজন ভিজিটর কর্মরত আছেন। তবে ভবনটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এটি উদ্বোধন করা হবে।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সরুফা বেগমের স্বজনরা বলেন, “রোগীকে সিজার করানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে জামালপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু থাকলে এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও শয্যা ও চিকিৎসক—দুটোরই সংকট রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এ. এম. আবু তাহের বলেন, “যদিও প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সরাসরি দায়িত্বাধীন নয়, তবে এটি চালু হলে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার মান অনেক উন্নত হবে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রবেষ্টিত ইসলামপুর উপজেলার বাসিন্দারা দ্রুত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, শিশু ও প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়া মানেই জীবনের ঝুঁকি বাড়ানো। তাই জনস্বার্থে দ্রুত কেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।