Dhaka ১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা চাঁদাবাজ-দখলদারদের যায়গা বিএনপিতে নেই মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় আজহারীর দোয়া, ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ সারিয়াকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আটক ৩ বগুড়ায় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে শহীদ পরিবার সোসাইটির স্মরণসভা

গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নন্দীগ্রামে সমন্বিত কর্মশালা

অনলাইন ডেস্ক: স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মশালায় গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা ও এর সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষ ‘ভদ্রাবতী’-তে অনুষ্ঠিত কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা। কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সেশন পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার এবং নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জের প্রতিনিধি এসআই সাম মোহাম্মদ। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, আইনগত কাঠামো এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী ইয়াছিন আলী। তিনি উপস্থিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুবিধাসমূহ তুলে ধরেন।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা আকতার বানু, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা শারমিন আকতার, সাংবাদিক ফজলুর রহমান, মনিরুজ্জামান ও আব্দুর রউফ উজ্জল। এছাড়াও ব্র্যাক, প্রশিকা, আশা, এসকেএস ফাউন্ডেশন, উদ্দীপন, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (গাক)সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় না। এতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে।

উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন-২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে গঠিত গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ের নির্দিষ্ট ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধের নিষ্পত্তি করে থাকে। এ আদালত সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা রাখে। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি একটি সহজলভ্য, সময়সাশ্রয়ী ও ব্যয়-সাশ্রয়ী বিচার ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নন্দীগ্রামে সমন্বিত কর্মশালা

আপডেটের সময়: ০৭:২০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মশালায় গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা ও এর সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষ ‘ভদ্রাবতী’-তে অনুষ্ঠিত কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা। কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সেশন পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার এবং নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জের প্রতিনিধি এসআই সাম মোহাম্মদ। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, আইনগত কাঠামো এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী ইয়াছিন আলী। তিনি উপস্থিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুবিধাসমূহ তুলে ধরেন।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা আকতার বানু, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা শারমিন আকতার, সাংবাদিক ফজলুর রহমান, মনিরুজ্জামান ও আব্দুর রউফ উজ্জল। এছাড়াও ব্র্যাক, প্রশিকা, আশা, এসকেএস ফাউন্ডেশন, উদ্দীপন, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (গাক)সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় না। এতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকে।

উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন-২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে গঠিত গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ের নির্দিষ্ট ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধের নিষ্পত্তি করে থাকে। এ আদালত সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা রাখে। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি একটি সহজলভ্য, সময়সাশ্রয়ী ও ব্যয়-সাশ্রয়ী বিচার ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।