Dhaka ০৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, মারামারিতে আহত ৩ নারী; থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পার্বতীপুরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কমল চন্দ্রের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা চাঁদাবাজ-দখলদারদের যায়গা বিএনপিতে নেই মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় আজহারীর দোয়া, ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ সারিয়াকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আটক ৩

বিদেশ থেকে ফিরে ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য, টেকনাফে বদলে গেল প্রবাসীর জীবন

অনলাইন ডেস্ক: দেশের মাটিতে বিদেশি ফলের সফল চাষের নজির স্থাপন করেছেন জাফর সাদেক। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে তিনি টেকনাফ-এ প্রায় ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ১৮ মাস আগে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার বাগানে এসেছে বাম্পার ফলন। এই সাফল্যে তিনি স্থানীয় কৃষকদের অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।

জানা গেছে, দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে ড্রাগন ফল চাষের উদ্যোগ নেন তিনি। মাত্র ৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করেন এই যাত্রা। প্রায় ১৮ মাসের পরিচর্যা ও পরিশ্রমের পর তার বাগানে এসেছে বাম্পার ফলন। এতে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

জাফর সাদিক (৫৫) টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন-এর জিনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একসময় দেশে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৬ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং ফসল চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

জাফর সাদিক জানান, একবার জমিতে ড্রাগন ফলের গাছ লাগালে সারা বছরই (১২ মাস) ফল পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ওষুধ, সেচ, নিড়ানি ও শ্রমিকসহ অন্যান্য খাতে মাসে প্রায় ২০–৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে এখন পর্যন্ত তার ৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাগানে তিনজন যুবক সার্বক্ষণিক কাজ করছেন এবং পুরো বাগানের দেখভাল করেন। তিনি নিজেও নিয়মিত বাগানে সময় দেন। প্রতি বছরই তার আয় বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি গাছ থেকে সাধারণত ২ থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।

এছাড়া তিনি জানান, অনেকেই তার কাছ থেকে চাষাবাদের পরামর্শ নিতে আসেন, এবং তিনি তাদেরকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।

এদিকে টেকনাফে প্রথমবারের মতো ড্রাগন ফলের চাষ হওয়ায় বাগানে স্থানীয়দের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাশেদুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, টেকনাফের মতো একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রথমবারের মতো ড্রাগন ফলের চাষ তিনি নিজ চোখে দেখছেন। এটি দেখে তিনি বেশ অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং তারও এই ড্রাগন চাষ করার ইচ্ছে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, টেকনাফের মানুষ যদি এভাবে উদ্যোক্তা হয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে মাদকের যে নেতিবাচক দুর্নাম রয়েছে তা অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি বাজার থেকে ফরমালিনযুক্ত ফলের ওপর নির্ভরতা কমে গিয়ে মানুষ নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল খেতে পারবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর ড্রাগন চাষে জাফর সাদিকের সফলতার কথা জানেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় প্রথমবারের মতো ড্রাগন চাষে সাহস জুগিয়েছেন জাফর সাদিক। ইতোমধ্যে তিনি এই চাষে লাভের মুখ দেখেছেন। পাশাপাশি কৃষি অফিস তার খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও প্রদান করছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত ও বেকার যুবকরা যদি জাফরের মতো কৃষিকাজে মনোযোগ দেন, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলায় জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, মারামারিতে আহত ৩ নারী; থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বিদেশ থেকে ফিরে ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য, টেকনাফে বদলে গেল প্রবাসীর জীবন

আপডেটের সময়: ০৮:২৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: দেশের মাটিতে বিদেশি ফলের সফল চাষের নজির স্থাপন করেছেন জাফর সাদেক। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে তিনি টেকনাফ-এ প্রায় ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ১৮ মাস আগে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার বাগানে এসেছে বাম্পার ফলন। এই সাফল্যে তিনি স্থানীয় কৃষকদের অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।

জানা গেছে, দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে ড্রাগন ফল চাষের উদ্যোগ নেন তিনি। মাত্র ৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করেন এই যাত্রা। প্রায় ১৮ মাসের পরিচর্যা ও পরিশ্রমের পর তার বাগানে এসেছে বাম্পার ফলন। এতে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

জাফর সাদিক (৫৫) টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন-এর জিনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একসময় দেশে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৬ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং ফসল চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

জাফর সাদিক জানান, একবার জমিতে ড্রাগন ফলের গাছ লাগালে সারা বছরই (১২ মাস) ফল পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ওষুধ, সেচ, নিড়ানি ও শ্রমিকসহ অন্যান্য খাতে মাসে প্রায় ২০–৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে এখন পর্যন্ত তার ৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাগানে তিনজন যুবক সার্বক্ষণিক কাজ করছেন এবং পুরো বাগানের দেখভাল করেন। তিনি নিজেও নিয়মিত বাগানে সময় দেন। প্রতি বছরই তার আয় বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি গাছ থেকে সাধারণত ২ থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।

এছাড়া তিনি জানান, অনেকেই তার কাছ থেকে চাষাবাদের পরামর্শ নিতে আসেন, এবং তিনি তাদেরকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।

এদিকে টেকনাফে প্রথমবারের মতো ড্রাগন ফলের চাষ হওয়ায় বাগানে স্থানীয়দের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাশেদুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, টেকনাফের মতো একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রথমবারের মতো ড্রাগন ফলের চাষ তিনি নিজ চোখে দেখছেন। এটি দেখে তিনি বেশ অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং তারও এই ড্রাগন চাষ করার ইচ্ছে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, টেকনাফের মানুষ যদি এভাবে উদ্যোক্তা হয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে মাদকের যে নেতিবাচক দুর্নাম রয়েছে তা অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি বাজার থেকে ফরমালিনযুক্ত ফলের ওপর নির্ভরতা কমে গিয়ে মানুষ নিরাপদ ও বিষমুক্ত ফল খেতে পারবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর ড্রাগন চাষে জাফর সাদিকের সফলতার কথা জানেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় প্রথমবারের মতো ড্রাগন চাষে সাহস জুগিয়েছেন জাফর সাদিক। ইতোমধ্যে তিনি এই চাষে লাভের মুখ দেখেছেন। পাশাপাশি কৃষি অফিস তার খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও প্রদান করছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত ও বেকার যুবকরা যদি জাফরের মতো কৃষিকাজে মনোযোগ দেন, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন।