
সংবাদ আজকাল ডেস্ক: ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগে চার দফা দাবিতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বুধবার (১৩ মে) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। তবে হাসপাতালের জরুরি ও নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। মানববন্ধনে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
চিকিৎসকদের দাবিগুলো হলো— হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
জানা গেছে, গত সোমবার (১১ মে) সকালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ মাস বয়সী শিশু নিহানকে বগুড়ার সেউজগাড়ি এলাকার বাসিন্দা খোকন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশুটি আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। বুধবার বিকেলের দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে একপর্যায়ে শিশুটি মারা যায়।
শিশুটির মৃত্যুর পর তার স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তোলে।
অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে উত্তেজিত স্বজনরা এক চিকিৎসকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এসে নিহানের পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা নিহানের মা, ফুপু ও চাচাসহ কয়েকজনকে আটক করেন। পরে রাত ১১টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিয়ামুল হাসান বলেন, “এই হাসপাতালের ধারণক্ষমতা ৫০০ শয্যার হলেও বর্তমানে ১ হাজার ২০০ বেড স্থাপন করা হয়েছে। অথচ হাসপাতালে প্রায় ৩ হাজার রোগী চিকিৎসাধীন। আমরা দিনরাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তারপরও সামান্য কিছু ঘটলেই চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন বলেন, “শিশুটির একজন স্বজন প্রথমে চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলেন এবং নিকাব সরানোর চেষ্টা করেন। কোনো ধরনের হামলাই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি নিয়ে অনুতপ্ত বলে জানিয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 


















