Dhaka ০১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা চাঁদাবাজ-দখলদারদের যায়গা বিএনপিতে নেই মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় আজহারীর দোয়া, ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ সারিয়াকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আটক ৩ বগুড়ায় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে শহীদ পরিবার সোসাইটির স্মরণসভা

টিউবওয়েল বিকল, দুর্ভোগে আদমদীঘি হাসপাতালের রোগী-স্বজন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:১১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ১৭৪ সময় দেখুন

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য থাকা একমাত্র বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েলটি টানা সাত দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। বাধ্য হয়ে অনেকে হাসপাতালের ট্যাপের পানি পান করছেন, আবার কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত মহাসড়ক পার হয়ে পাশের দোকান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, এক সপ্তাহ ধরে টিউবওয়েলটি বিকল থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা মেরামতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) বিষয়টি সম্পর্কে অবগতই ছিলেন না। সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। মাত্র ৩ টাকার টিকিটে জরুরি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এসব রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের একমাত্র উৎস ছিল হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত একটি টিউবওয়েল। সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানিসংকট।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সরবরাহকৃত পানি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ট্যাংক ও পাইপলাইনের মাধ্যমে আসে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সেখানে ময়লা ও শ্যাওলা জমে থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে অনেকেই সেই পানি পান করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে কেউ কেউ সেই পানি ব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী রাবেয়া খাতুন ও ছালমা বেগম জানান, তারা কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের পক্ষে প্রতিদিন বোতলজাত পানি কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। একমাত্র টিউবওয়েলটি নষ্ট থাকায় খাবার পানির জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা অসুস্থ মানুষের জন্য আরও কষ্টকর।

ভুক্তভোগীদের দাবি, টিউবওয়েলটি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। ফলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকাকে দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আব্দুল হালিম বলেন, “বিষয়টি আমি প্রথম শুনলাম। এর আগে আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দ্রুত টিউবওয়েলটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত টিউবওয়েলটি সচল করার পাশাপাশি হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

টিউবওয়েল বিকল, দুর্ভোগে আদমদীঘি হাসপাতালের রোগী-স্বজন

আপডেটের সময়: ০৪:১১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য থাকা একমাত্র বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েলটি টানা সাত দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। বাধ্য হয়ে অনেকে হাসপাতালের ট্যাপের পানি পান করছেন, আবার কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত মহাসড়ক পার হয়ে পাশের দোকান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, এক সপ্তাহ ধরে টিউবওয়েলটি বিকল থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা মেরামতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) বিষয়টি সম্পর্কে অবগতই ছিলেন না। সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। মাত্র ৩ টাকার টিকিটে জরুরি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এসব রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের একমাত্র উৎস ছিল হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত একটি টিউবওয়েল। সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানিসংকট।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সরবরাহকৃত পানি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ট্যাংক ও পাইপলাইনের মাধ্যমে আসে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সেখানে ময়লা ও শ্যাওলা জমে থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে অনেকেই সেই পানি পান করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে কেউ কেউ সেই পানি ব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী রাবেয়া খাতুন ও ছালমা বেগম জানান, তারা কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের পক্ষে প্রতিদিন বোতলজাত পানি কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। একমাত্র টিউবওয়েলটি নষ্ট থাকায় খাবার পানির জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা অসুস্থ মানুষের জন্য আরও কষ্টকর।

ভুক্তভোগীদের দাবি, টিউবওয়েলটি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। ফলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকাকে দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আব্দুল হালিম বলেন, “বিষয়টি আমি প্রথম শুনলাম। এর আগে আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দ্রুত টিউবওয়েলটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত টিউবওয়েলটি সচল করার পাশাপাশি হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।