
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় আদালতে বিচারাধীন সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে প্রায় ৮০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি, ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. জাকিরুল ইসলাম জাকির।
৬ অক্টোবর ২০২৬ সোনাতলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি। জাকিরুল ইসলাম জাকির সোনাতলা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গড়ফতেপুর গ্রামের মুন্জুরুল ইসলামের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে জাকিরুল ইসলাম বলেন, গড়ফতেপুর মৌজার সাবেক ৩০৪ দাগের একটি সম্পত্তি তার নানি মোছা. হাসনা বানুর নামে কবলা দলিলভুক্ত। পরবর্তীতে ওয়ারিশসূত্রে তারা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তাদের ঘরবাড়ি রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা লাগিয়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ওই সম্পত্তির দখল ও মালিকানা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছে বলে জানান জাকিরুল। এ বিরোধের জের ধরে তার নানী মোছা. হাসনা বানু বগুড়ার বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমা নং-৮৯/২০২৩ দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
জাকিরুল ইসলামের অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময়ে তাদের ভোগদখলে বাধা, ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মো. খলিলুর রহমান, মো. নান্নু মিয়া, মোছা. নুরুন নাহার বেগম ও মো. সুজন মিয়া তাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে প্রবেশ করে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির আনুমানিক ৮০টি গাছ কেটে ফেলেন। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গাছ কাটার সময় তিনি ও পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাত কিছু চিহ্নিত ভাড়াটে সন্ত্রাসী গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন জাকিরুল। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও গাছপালা কেটে ফেলা, মারধর এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান জাকিরুল। এলাকার অনেকেই ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাকিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই চাই। একই সঙ্গে আমাদের জীবন, পরিবার ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
তিনি আরও বলেন, আদালতে বিচারাধীন সম্পত্তি নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ যাতে জোরপূর্বক দখল, গাছপালা কর্তন বা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৫ অক্টোবরের গাছ কাটার অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে হামলা, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন বা হুমকি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রতিবেদকের নাম 










