Dhaka ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা চাঁদাবাজ-দখলদারদের যায়গা বিএনপিতে নেই মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় আজহারীর দোয়া, ওমরাহযাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ সারিয়াকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ আটক ৩ বগুড়ায় শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে শহীদ পরিবার সোসাইটির স্মরণসভা

চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে বিক্ষোভ ও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একপর্যায়ে পুলিশি নিরাপত্তায় দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায় তাকে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকার ‘এইচ এম ভিলা’ নামের একটি বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় যান। তার আগমনকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা শুরু হলে ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও স্থানীয় কিছু মানুষ বাসার সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা

তারা জানতে চান, কী উদ্দেশ্যে তিনি ওই বাসায় এসেছেন এবং সেখানে কোনো ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল কি না। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় তিনি কেন গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাসা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় নেতা।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধরা হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করছেন—‘আপনি সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন, তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন?’
তখন হাসনাত আবদুল্লাহকে হাত নাড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল

স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, এনসিপি থেকে চট্টগ্রামে মেয়র পদে নির্বাচন করার বিষয়ে প্রাথমিক আলাপ করতেই মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করতে যান হাসনাত। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মনজুর আলম। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই হাসনাত তাকে দেখতে এসেছিলেন। কুশল বিনিময় ও দুপুরের খাবার শেষে তিনি চলে যান।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি চারবার ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত

আপডেটের সময়: ০৩:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে বিক্ষোভ ও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একপর্যায়ে পুলিশি নিরাপত্তায় দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায় তাকে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকার ‘এইচ এম ভিলা’ নামের একটি বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় যান। তার আগমনকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা শুরু হলে ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও স্থানীয় কিছু মানুষ বাসার সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল

তারা জানতে চান, কী উদ্দেশ্যে তিনি ওই বাসায় এসেছেন এবং সেখানে কোনো ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল কি না। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় তিনি কেন গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাসা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় নেতা।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধরা হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করছেন—‘আপনি সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন, তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন?’
তখন হাসনাত আবদুল্লাহকে হাত নাড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা

স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, এনসিপি থেকে চট্টগ্রামে মেয়র পদে নির্বাচন করার বিষয়ে প্রাথমিক আলাপ করতেই মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করতে যান হাসনাত। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মনজুর আলম। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই হাসনাত তাকে দেখতে এসেছিলেন। কুশল বিনিময় ও দুপুরের খাবার শেষে তিনি চলে যান।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি চারবার ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন।