Dhaka ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মধুখালীতে ব্যবসায়ীর ওপর নৃশংস হামলা, দুই হাত কুপিয়ে টাকা ছিনতাই জয়পুরহাট সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১০ স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক বগুড়া বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, নতুন কমিটি ঘোষণা নন্দীগ্রামে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার গ্রেপ্তার পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, হতে পারে ৩ মাসের কারাদণ্ড নন্দীগ্রাম পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা ১৪০ বছরের ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ জনবান্ধব বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে বগুড়ায় মহানগর বিএনপির আনন্দ মিছিল নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি দখল ও নির্যাতনের অভিযোগে পার্বতীপুরে মানববন্ধন উলিপুরে মৎস্য চাষিদের মাঝে প্রদর্শনী স্থাপনের উপকরণ বিতরণ

পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, হতে পারে ৩ মাসের কারাদণ্ড

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ১৯ সময় দেখুন

সংবাদ আজকাল নিউজ: পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক ছেলে মেয়ের আইনগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের বৃদ্ধনিবাসে বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করাও আইনত নিষিদ্ধ।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে সন্তানের গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণপোষণের মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সঙ্গ প্রদান অন্তর্ভুক্ত।

আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তান তার পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে বাধ্য। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এ দায়িত্ব পালন করবে। পিতা-মাতার একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোনো স্থানে থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

এ ছাড়া সন্তানদের নিয়মিত পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের দৈনিক বা মাসিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত প্রদান করতে হবে।

আইনের ৪ ধারায় আরও বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনিদের ওপর বর্তাবে। এ দায়িত্বও পিতা-মাতার ভরণপোষণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী, ৩ বা ৪ ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণপোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাকেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় একটি যুগান্তকারী আইন। আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানের জন্য পিতা-মাতার ভরণপোষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করে পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ৫ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান দায়িত্বহীন সন্তানদের জন্য একটি কঠোর আইনি বার্তা। অন্যদিকে ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নাতি-নাতনিদের ওপর অর্পণ করে তিন প্রজন্মের পারিবারিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন আরও বলেন, আইনের ৮ ধারায় আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে, যা দেশের সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণপোষণ তহবিল ও পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এটি অসহায় প্রবীণদের জন্য নতুন আশার আলো।

তিনি বলেন, এই আইন শুধু শাস্তি দেওয়ার জন্য নয় সন্তানদের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যও প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়লে পারিবারিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে এবং প্রবীণরা তাদের প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতভাবে পাবেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মধুখালীতে ব্যবসায়ীর ওপর নৃশংস হামলা, দুই হাত কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, হতে পারে ৩ মাসের কারাদণ্ড

আপডেটের সময়: ০৩:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

সংবাদ আজকাল নিউজ: পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক ছেলে মেয়ের আইনগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন না করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের বৃদ্ধনিবাসে বা অন্য কোথাও থাকতে বাধ্য করাও আইনত নিষিদ্ধ।

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ‘পিতা’ বলতে সন্তানের জনক এবং ‘মাতা’ বলতে সন্তানের গর্ভধারিণীকে বোঝানো হয়েছে। ভরণপোষণের মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সঙ্গ প্রদান অন্তর্ভুক্ত।

আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তান তার পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে বাধ্য। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এ দায়িত্ব পালন করবে। পিতা-মাতার একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোনো স্থানে থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

এ ছাড়া সন্তানদের নিয়মিত পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের দৈনিক বা মাসিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত প্রদান করতে হবে।

আইনের ৪ ধারায় আরও বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদী এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনিদের ওপর বর্তাবে। এ দায়িত্বও পিতা-মাতার ভরণপোষণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী, ৩ বা ৪ ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণপোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাকেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন বলেন, ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় একটি যুগান্তকারী আইন। আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানের জন্য পিতা-মাতার ভরণপোষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করে পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ৫ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান দায়িত্বহীন সন্তানদের জন্য একটি কঠোর আইনি বার্তা। অন্যদিকে ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নাতি-নাতনিদের ওপর অর্পণ করে তিন প্রজন্মের পারিবারিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন আরও বলেন, আইনের ৮ ধারায় আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে, যা দেশের সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি জানান, ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণপোষণ তহবিল ও পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এটি অসহায় প্রবীণদের জন্য নতুন আশার আলো।

তিনি বলেন, এই আইন শুধু শাস্তি দেওয়ার জন্য নয় সন্তানদের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যও প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়লে পারিবারিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে এবং প্রবীণরা তাদের প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতভাবে পাবেন।