Dhaka ১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬৫ বছরের ব্যক্তি গ্রেপ্তার সোনাতলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৯৬ কৃতি শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের সংবর্ধনা ওসি কবির হোসেনের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযানে সোনাতলায় ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার ২ সোনাতলায় বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত পার্বতীপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত সোনাতলায় অবৈধ বালু উত্তোলন, তাতীদল নেতাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা পার্বতীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ সংবাদ সম্মেলন সোনাতলায় ৩০০ টাকা হারানোকে কেন্দ্র করে মারধর, নিহত ১ পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন, সারাদেশে চলবে বিশেষ অভিযান বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি বগুড়া মহানগর ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক কবির হোসেন মিলন

পাহাড়ধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামে সতর্কতা, রেলের পাহাড়ে মাইকিং শুরু

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: চট্টগ্রামে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে পাহাড়ধসে প্রাণহানি এড়াতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

প্রতিবছর ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ধসের ঘটনা ঘটে, যা প্রাণহানির বড় ঝুঁকি তৈরি করে। এ কারণে বর্ষা শুরুর আগেই রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে সতর্কতামূলক মাইকিং চালিয়ে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি জেনেও বাসিন্দারা পুনরায় পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপন করেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত জানান, পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ ও সিআরবিসহ বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে সকাল ১১টা থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে বর্তমানে ৫ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, যেখানে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ বসবাস করছে। এর মধ্যে ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে সবচেয়ে বেশি, ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার বসবাস করছে।

এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় ৪৩১টি, লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয়নগর পাহাড়ে ২৮৮টি, ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ে ৭৪টি এবং জাকির হোসেন সড়ক এলাকায় ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে। একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও পাহাড় দখল করে অবৈধ বসতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের আশঙ্কা প্রকাশ করায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ফলে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে তদন্ত কমিটির ৩৬ দফা সুপারিশ থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৭ সালেও একই ধরনের ঘটনায় ১৬৮ জন প্রাণ হারান। সর্বশেষ ২০২২ সালে পাহাড়ধসে একই পরিবারের দুইজন নিহত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়।

Tag :

সোনাতলায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬৫ বছরের ব্যক্তি গ্রেপ্তার

পাহাড়ধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামে সতর্কতা, রেলের পাহাড়ে মাইকিং শুরু

আপডেটের সময়: ০৮:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: চট্টগ্রামে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে পাহাড়ধসে প্রাণহানি এড়াতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

প্রতিবছর ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ধসের ঘটনা ঘটে, যা প্রাণহানির বড় ঝুঁকি তৈরি করে। এ কারণে বর্ষা শুরুর আগেই রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে সতর্কতামূলক মাইকিং চালিয়ে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি জেনেও বাসিন্দারা পুনরায় পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপন করেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত জানান, পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ ও সিআরবিসহ বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে সকাল ১১টা থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে বর্তমানে ৫ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, যেখানে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ বসবাস করছে। এর মধ্যে ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে সবচেয়ে বেশি, ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার বসবাস করছে।

এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় ৪৩১টি, লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয়নগর পাহাড়ে ২৮৮টি, ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ে ৭৪টি এবং জাকির হোসেন সড়ক এলাকায় ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে। একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও পাহাড় দখল করে অবৈধ বসতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের আশঙ্কা প্রকাশ করায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ফলে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে তদন্ত কমিটির ৩৬ দফা সুপারিশ থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৭ সালেও একই ধরনের ঘটনায় ১৬৮ জন প্রাণ হারান। সর্বশেষ ২০২২ সালে পাহাড়ধসে একই পরিবারের দুইজন নিহত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়।