Dhaka ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সারিয়াকান্দি ও সোনাতলায় ৫৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এমপির সুপারিশ বগুড়ায় ভুয়া চক্ষু বিশেষজ্ঞ সেজে প্রতারণা, ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ১ লক্ষ্য টাকা জরিমানা ৮ বছর পর নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের কমিটি, সাপাহারে আনন্দ মিছিল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার সময় বাড়বে, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী পাহাড়ধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামে সতর্কতা, রেলের পাহাড়ে মাইকিং শুরু সোনাতলায় পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ এক ব্যাক্তি আটক ডিসিদের সর্বত্র দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সান্তাহারে রেলওয়ের জমি নিয়ে বিরোধ, বিএনপি নেতা ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত বগুড়ায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর উদ্বোধন সোনাতলায় ছাত্রদলের উদ্যোগে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

পাহাড়ধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামে সতর্কতা, রেলের পাহাড়ে মাইকিং শুরু

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: চট্টগ্রামে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে পাহাড়ধসে প্রাণহানি এড়াতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

প্রতিবছর ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ধসের ঘটনা ঘটে, যা প্রাণহানির বড় ঝুঁকি তৈরি করে। এ কারণে বর্ষা শুরুর আগেই রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে সতর্কতামূলক মাইকিং চালিয়ে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি জেনেও বাসিন্দারা পুনরায় পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপন করেন।

আরও পড়ুনঃ  সংসদে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু চাইলেন এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত জানান, পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ ও সিআরবিসহ বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে সকাল ১১টা থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে বর্তমানে ৫ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, যেখানে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ বসবাস করছে। এর মধ্যে ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে সবচেয়ে বেশি, ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার বসবাস করছে।

আরও পড়ুনঃ  বাবার স্মৃতিবিজড়িত মসজিদের পুনর্নির্মাণে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্বোধন

এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় ৪৩১টি, লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয়নগর পাহাড়ে ২৮৮টি, ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ে ৭৪টি এবং জাকির হোসেন সড়ক এলাকায় ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে। একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও পাহাড় দখল করে অবৈধ বসতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের আশঙ্কা প্রকাশ করায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ফলে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনার সময় বাড়বে, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে তদন্ত কমিটির ৩৬ দফা সুপারিশ থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৭ সালেও একই ধরনের ঘটনায় ১৬৮ জন প্রাণ হারান। সর্বশেষ ২০২২ সালে পাহাড়ধসে একই পরিবারের দুইজন নিহত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সারিয়াকান্দি ও সোনাতলায় ৫৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এমপির সুপারিশ

পাহাড়ধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামে সতর্কতা, রেলের পাহাড়ে মাইকিং শুরু

আপডেটের সময়: ০৮:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: চট্টগ্রামে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে পাহাড়ধসে প্রাণহানি এড়াতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

প্রতিবছর ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ে ধসের ঘটনা ঘটে, যা প্রাণহানির বড় ঝুঁকি তৈরি করে। এ কারণে বর্ষা শুরুর আগেই রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে সতর্কতামূলক মাইকিং চালিয়ে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি জেনেও বাসিন্দারা পুনরায় পাহাড়ের ঢালে বসতি স্থাপন করেন।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় লেদ শ্রমিকদের বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত জানান, পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ ও সিআরবিসহ বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে সকাল ১১টা থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে বর্তমানে ৫ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, যেখানে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ বসবাস করছে। এর মধ্যে ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে সবচেয়ে বেশি, ৪ হাজার ৪৭৬টি পরিবার বসবাস করছে।

আরও পড়ুনঃ  বাবার স্মৃতিবিজড়িত মসজিদের পুনর্নির্মাণে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্বোধন

এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় ৪৩১টি, লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয়নগর পাহাড়ে ২৮৮টি, ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ে ৭৪টি এবং জাকির হোসেন সড়ক এলাকায় ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে। একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও পাহাড় দখল করে অবৈধ বসতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের আশঙ্কা প্রকাশ করায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ফলে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সংসদে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু চাইলেন এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়। পরে তদন্ত কমিটির ৩৬ দফা সুপারিশ থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৭ সালেও একই ধরনের ঘটনায় ১৬৮ জন প্রাণ হারান। সর্বশেষ ২০২২ সালে পাহাড়ধসে একই পরিবারের দুইজন নিহত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়।