Dhaka ১২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নন্দীগ্রামের সবুজ প্রান্তরে শামুকখোল পাখির ঝাঁক, মুগ্ধ স্থানীয়রা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ঠিকাদার কল্যান সমিতি ও মিনি ঠিকাদার কল্যান সমিতির যৌথ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত সুন্দরগঞ্জে টানা বর্ষণে সর্বস্বান্ত তরুণ উদ্যোক্তা, নষ্ট ৩০০ পেঁপে গাছ পার্বতীপুরে পূবালী ব্যাংকের ৩ দিনব্যাপী ফ্রি ক্যাশলেস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন মাদক কারবার বন্ধের দাবিতে পার্বতীপুরে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি প্রদান মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান এমপি কাজী রফিকুল ইসলামের পার্বতীপুরে মা-মেয়ে হত্যা, অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন সোনাতলায় প্রায় ৫ হাজার কৃষকের হাতে উঠছে কৃষিকার্ড, শুরু হয়েছে তালিকা প্রণয়নের কাজ পার্বতীপুরে পিতার শাবলের আঘাতে কিশোর নিহত, পিতা আটক বগুড়ায় কলোনি ব্যবসায়ী বণিক সমিতি গঠনে মতবিনিময় সভা, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

টিউবওয়েল বিকল, দুর্ভোগে আদমদীঘি হাসপাতালের রোগী-স্বজন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:১১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৯০ সময় দেখুন

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য থাকা একমাত্র বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েলটি টানা সাত দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। বাধ্য হয়ে অনেকে হাসপাতালের ট্যাপের পানি পান করছেন, আবার কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত মহাসড়ক পার হয়ে পাশের দোকান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, এক সপ্তাহ ধরে টিউবওয়েলটি বিকল থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা মেরামতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) বিষয়টি সম্পর্কে অবগতই ছিলেন না। সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুনঃ  এইচএসসি পরীক্ষায় ২২ মিনিট দেরিতে প্রশ্ন বিতরণ, গাবতলীর এসিল্যান্ড প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। মাত্র ৩ টাকার টিকিটে জরুরি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এসব রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের একমাত্র উৎস ছিল হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত একটি টিউবওয়েল। সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানিসংকট।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সরবরাহকৃত পানি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ট্যাংক ও পাইপলাইনের মাধ্যমে আসে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সেখানে ময়লা ও শ্যাওলা জমে থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে অনেকেই সেই পানি পান করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে কেউ কেউ সেই পানি ব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী রাবেয়া খাতুন ও ছালমা বেগম জানান, তারা কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের পক্ষে প্রতিদিন বোতলজাত পানি কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। একমাত্র টিউবওয়েলটি নষ্ট থাকায় খাবার পানির জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা অসুস্থ মানুষের জন্য আরও কষ্টকর।

ভুক্তভোগীদের দাবি, টিউবওয়েলটি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। ফলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকাকে দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আব্দুল হালিম বলেন, “বিষয়টি আমি প্রথম শুনলাম। এর আগে আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দ্রুত টিউবওয়েলটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত টিউবওয়েলটি সচল করার পাশাপাশি হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নন্দীগ্রামের সবুজ প্রান্তরে শামুকখোল পাখির ঝাঁক, মুগ্ধ স্থানীয়রা

টিউবওয়েল বিকল, দুর্ভোগে আদমদীঘি হাসপাতালের রোগী-স্বজন

আপডেটের সময়: ০৪:১১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য থাকা একমাত্র বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েলটি টানা সাত দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। বাধ্য হয়ে অনেকে হাসপাতালের ট্যাপের পানি পান করছেন, আবার কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত মহাসড়ক পার হয়ে পাশের দোকান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, এক সপ্তাহ ধরে টিউবওয়েলটি বিকল থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা মেরামতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) বিষয়টি সম্পর্কে অবগতই ছিলেন না। সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুনঃ  এইচএসসি পরীক্ষায় ২২ মিনিট দেরিতে প্রশ্ন বিতরণ, গাবতলীর এসিল্যান্ড প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। মাত্র ৩ টাকার টিকিটে জরুরি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এসব রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের একমাত্র উৎস ছিল হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত একটি টিউবওয়েল। সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানিসংকট।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সরবরাহকৃত পানি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ট্যাংক ও পাইপলাইনের মাধ্যমে আসে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সেখানে ময়লা ও শ্যাওলা জমে থাকতে পারে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে অনেকেই সেই পানি পান করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে কেউ কেউ সেই পানি ব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী রাবেয়া খাতুন ও ছালমা বেগম জানান, তারা কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের পক্ষে প্রতিদিন বোতলজাত পানি কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। একমাত্র টিউবওয়েলটি নষ্ট থাকায় খাবার পানির জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা অসুস্থ মানুষের জন্য আরও কষ্টকর।

ভুক্তভোগীদের দাবি, টিউবওয়েলটি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। ফলে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকাকে দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আব্দুল হালিম বলেন, “বিষয়টি আমি প্রথম শুনলাম। এর আগে আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দ্রুত টিউবওয়েলটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত টিউবওয়েলটি সচল করার পাশাপাশি হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।