Dhaka ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
এইচএসসি পরীক্ষায় সোনাতলার কলেজগুলোর বেহাল দশা, ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ অনুমতি ও জুতা খোলার বাধ্যবাধকতা নেই, জনবান্ধব উদ্যোগে প্রশংসিত বরুড়ার ইউএনও সোনাতলার ঘোড়াপীর রোডে ৩০০ মিটার আরসিসি ঢালাই কাজের উদ্বোধন পার্বতীপুরে কালভার্টের পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধের অভিযোগ, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে সোনাতলায় বিএনপির সমাবেশ আমরাও চাই হাসিনা আসুক, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়’—মীর শাহে আলম বগুড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, সারের সুষম বণ্টন ও জ্বালানি গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা সভা সোনাতলায় অনলাইন জুয়া, মাদক ও বাল্যবিবাহবিরোধী সমাবেশ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ সোনাতলায় মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল, পেনাল্টিতে চ্যাম্পিয়ন খানপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব সোনাতলার বালুয়ায় ৬ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, অনুদান দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান

এইচএসসি পরীক্ষায় সোনাতলার কলেজগুলোর বেহাল দশা, ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে। উপজেলার কলেজগুলোতে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। সব মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একটি কলেজ থেকে একজন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় তিনজন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা মহিলা কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সোনাতলা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে তিনজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তবে উপজেলার অধিকাংশ কলেজেই পাসের হার ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ থেকে ১০৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র চারজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সোনাতলা সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩০ জন। পাসের হার ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

আরও পড়ুনঃ  দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে সোনাতলায় বিএনপির সমাবেশ

মহেশপাড়া আব্দুল মান্নান বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন আটজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ভেলুরপাড়ার ডক্টর এনামুল হক কলেজ থেকে ১৮৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩৯ জন। এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, সোনাতলা মহিলা কলেজ থেকে ২৬২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮০ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ কলেজ থেকেই একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলার ঘোড়াপীর রোডে ৩০০ মিটার আরসিসি ঢালাই কাজের উদ্বোধন

এ ছাড়া সোনাতলা সরকারি নাজির আখতার কলেজ থেকে ৫৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২২২ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সরকারি এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজের এটিএম মোস্তফা কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ না দিয়ে রাত জেগে মোবাইল ফোনে গেমস খেলা ও চ্যাটিংয়ে সময় কাটায়। ফলে তাদের পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ নাজমুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পাসের পর অনেক শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হলেও নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেয় না। পড়াশোনার প্রতি উদাসীনতা এবং সময়ের যথাযথ ব্যবহার না করার কারণে এমন ফলাফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলার ঘোড়াপীর রোডে ৩০০ মিটার আরসিসি ঢালাই কাজের উদ্বোধন

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান উন্নয়ন এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সোনাতলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাসের নিম্নহার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

এইচএসসি পরীক্ষায় সোনাতলার কলেজগুলোর বেহাল দশা, ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ

এইচএসসি পরীক্ষায় সোনাতলার কলেজগুলোর বেহাল দশা, ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ

আপডেটের সময়: ০৯:৫১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে। উপজেলার কলেজগুলোতে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। সব মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র চারজন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একটি কলেজ থেকে একজন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় তিনজন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা মহিলা কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সোনাতলা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে তিনজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তবে উপজেলার অধিকাংশ কলেজেই পাসের হার ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ থেকে ১০৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র চারজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সোনাতলা সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩০ জন। পাসের হার ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

আরও পড়ুনঃ  দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে সোনাতলায় বিএনপির সমাবেশ

মহেশপাড়া আব্দুল মান্নান বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন আটজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ভেলুরপাড়ার ডক্টর এনামুল হক কলেজ থেকে ১৮৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩৯ জন। এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, সোনাতলা মহিলা কলেজ থেকে ২৬২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮০ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ কলেজ থেকেই একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলার ঘোড়াপীর রোডে ৩০০ মিটার আরসিসি ঢালাই কাজের উদ্বোধন

এ ছাড়া সোনাতলা সরকারি নাজির আখতার কলেজ থেকে ৫৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২২২ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সরকারি এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজের এটিএম মোস্তফা কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ না দিয়ে রাত জেগে মোবাইল ফোনে গেমস খেলা ও চ্যাটিংয়ে সময় কাটায়। ফলে তাদের পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ নাজমুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পাসের পর অনেক শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হলেও নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেয় না। পড়াশোনার প্রতি উদাসীনতা এবং সময়ের যথাযথ ব্যবহার না করার কারণে এমন ফলাফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুনঃ  দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে সোনাতলায় বিএনপির সমাবেশ

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান উন্নয়ন এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সোনাতলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাসের নিম্নহার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।