Dhaka ০৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কড়াকড়ি, সংকটে হাজারো বনজীবী ফরিদপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ৩০ তাঁতী দল নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ পার্বতীপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, সহায়তার আবেদন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ইসলামপুরে এসিড নিক্ষেপ করে ডাকাতি, দগ্ধ দম্পতি ঢাকায় চিকিৎসাধীন দেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় নারী প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগে জুতাপেটার শিকার এনসিপি নেতা, দল থেকে অব্যাহতি ও শোকজ মহাস্থানগড়ের মূর্তি বিতর্ক, অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সারিয়াকান্দিতে নিজাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় ঈদের দ্বিতীয় দিনে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কড়াকড়ি, সংকটে হাজারো বনজীবী

সংবাদ আজকাল নিউজ: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাসের জন্য বনাঞ্চলে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুন থেকে আগস্ট সময়কালটি সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনাঞ্চলের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে স্বামীর হাতে গৃহবধূ খুন, ঘাতক স্বামী আটক

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বন বন্ধ রাখার ফলে জলজ প্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধি পাবে, বনের জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে এবং বনজ সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাঘ, হরিণ, বানর, কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এ সময়ে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশে বিচরণ ও বংশবিস্তার করতে পারবে।

তবে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি ও বনজীবী পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাদের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। অনেকেই সংসারের খরচ মেটাতে ঋণ কিংবা ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জেলা পরিষদ প্রশাসকের শুভেচ্ছা

শ্যামনগর ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার বনজীবীরা জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বন রক্ষার স্বার্থে তারা সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তবে নিষেধাজ্ঞার এই তিন মাসে বিকল্প কর্মসংস্থান, খাদ্য সহায়তা কিংবা আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তাই বন বন্ধকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা, ভিজিএফ কর্মসূচি এবং সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন রক্ষী ও টহল দল নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। এ সময় কেউ অবৈধভাবে বনাঞ্চলে প্রবেশ, মাছ বা কাঁকড়া আহরণ কিংবা অন্য কোনো বনজ সম্পদ সংগ্রহ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএনসিসি প্রশাসক

পরিবেশবিদ ও বন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে একই সঙ্গে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে বন সংরক্ষণ কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করলে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমানও উন্নত হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কড়াকড়ি, সংকটে হাজারো বনজীবী

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কড়াকড়ি, সংকটে হাজারো বনজীবী

আপডেটের সময়: ০৩:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

সংবাদ আজকাল নিউজ: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাসের জন্য বনাঞ্চলে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুন থেকে আগস্ট সময়কালটি সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনাঞ্চলের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কুরবানীর গোস্ত আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন সদরপুরের মৎস্যজীবী আব্দুস সাত্তার

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বন বন্ধ রাখার ফলে জলজ প্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধি পাবে, বনের জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে এবং বনজ সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাঘ, হরিণ, বানর, কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এ সময়ে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশে বিচরণ ও বংশবিস্তার করতে পারবে।

তবে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি ও বনজীবী পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাদের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। অনেকেই সংসারের খরচ মেটাতে ঋণ কিংবা ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  তাঁতী দল নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ

শ্যামনগর ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার বনজীবীরা জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বন রক্ষার স্বার্থে তারা সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তবে নিষেধাজ্ঞার এই তিন মাসে বিকল্প কর্মসংস্থান, খাদ্য সহায়তা কিংবা আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তাই বন বন্ধকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা, ভিজিএফ কর্মসূচি এবং সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন রক্ষী ও টহল দল নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। এ সময় কেউ অবৈধভাবে বনাঞ্চলে প্রবেশ, মাছ বা কাঁকড়া আহরণ কিংবা অন্য কোনো বনজ সম্পদ সংগ্রহ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় নারী প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগে জুতাপেটার শিকার এনসিপি নেতা, দল থেকে অব্যাহতি ও শোকজ

পরিবেশবিদ ও বন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে একই সঙ্গে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে বন সংরক্ষণ কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করলে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমানও উন্নত হবে।