Dhaka ০৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাস্তবায়ন দাবি সারজিস আলমের নিখোঁজের ২৫ বছর পর মিলল বাক-প্রতিবন্ধী রুবির মরদেহ, হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন বগুড়ার সোনাতলায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ গ্রেফতার ৭ মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে বগুড়া বেকারী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিবাদ এ কেমন নিষ্ঠুরতা! নরসিংদীতে দুই মাসের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বগুড়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বদলগাছীতে সিএনজি-মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, গুরুতর আহত দুই চালক সোনাতলায় জাতীয়তাবাদী অটো-রিক্সা ভ্যান শ্রমিক দলের ২১ সদস্যের কমিটি গঠন, সভাপতি মিলন ও সম্পাদক রায়হান জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে তিন বাংলাদেশি উধাও, বিজিবি-গ্রামবাসীর বক্তব্যে ভিন্নতা বন্যার্তদের পাশে গাজীপুর, ৫ এমপির এক মাসের বেতন, সরকারি কর্মচারীদের একদিনের বেতন ত্রাণ তহবিলে

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কড়াকড়ি, সংকটে হাজারো বনজীবী

সংবাদ আজকাল নিউজ: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাসের জন্য বনাঞ্চলে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুন থেকে আগস্ট সময়কালটি সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনাঞ্চলের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নিখোঁজের ২৫ বছর পর মিলল বাক-প্রতিবন্ধী রুবির মরদেহ, হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বন বন্ধ রাখার ফলে জলজ প্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধি পাবে, বনের জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে এবং বনজ সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাঘ, হরিণ, বানর, কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এ সময়ে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশে বিচরণ ও বংশবিস্তার করতে পারবে।

তবে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি ও বনজীবী পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাদের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। অনেকেই সংসারের খরচ মেটাতে ঋণ কিংবা ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীতে পরিচ্ছন্নকর্মী ববি বেগম হত্যা, পাঁচ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

শ্যামনগর ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার বনজীবীরা জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বন রক্ষার স্বার্থে তারা সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তবে নিষেধাজ্ঞার এই তিন মাসে বিকল্প কর্মসংস্থান, খাদ্য সহায়তা কিংবা আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তাই বন বন্ধকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা, ভিজিএফ কর্মসূচি এবং সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন রক্ষী ও টহল দল নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। এ সময় কেউ অবৈধভাবে বনাঞ্চলে প্রবেশ, মাছ বা কাঁকড়া আহরণ কিংবা অন্য কোনো বনজ সম্পদ সংগ্রহ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  এ কেমন নিষ্ঠুরতা! নরসিংদীতে দুই মাসের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

পরিবেশবিদ ও বন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে একই সঙ্গে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে বন সংরক্ষণ কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করলে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমানও উন্নত হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাস্তবায়ন দাবি সারজিস আলমের

সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কড়াকড়ি, সংকটে হাজারো বনজীবী

আপডেটের সময়: ০৩:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

সংবাদ আজকাল নিউজ: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ১ জুন থেকে টানা তিন মাসের জন্য বনাঞ্চলে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুন থেকে আগস্ট সময়কালটি সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনাঞ্চলের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে তিন বাংলাদেশি উধাও, বিজিবি-গ্রামবাসীর বক্তব্যে ভিন্নতা

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বন বন্ধ রাখার ফলে জলজ প্রাণীর প্রজনন বৃদ্ধি পাবে, বনের জীববৈচিত্র্য আরও সমৃদ্ধ হবে এবং বনজ সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাঘ, হরিণ, বানর, কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী এ সময়ে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশে বিচরণ ও বংশবিস্তার করতে পারবে।

তবে এ নিষেধাজ্ঞার কারণে সুন্দরবন-নির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি ও বনজীবী পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাদের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। অনেকেই সংসারের খরচ মেটাতে ঋণ কিংবা ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  নিখোঁজের ২৫ বছর পর মিলল বাক-প্রতিবন্ধী রুবির মরদেহ, হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন

শ্যামনগর ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার বনজীবীরা জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বন রক্ষার স্বার্থে তারা সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তবে নিষেধাজ্ঞার এই তিন মাসে বিকল্প কর্মসংস্থান, খাদ্য সহায়তা কিংবা আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তাই বন বন্ধকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা, ভিজিএফ কর্মসূচি এবং সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন রক্ষী ও টহল দল নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। এ সময় কেউ অবৈধভাবে বনাঞ্চলে প্রবেশ, মাছ বা কাঁকড়া আহরণ কিংবা অন্য কোনো বনজ সম্পদ সংগ্রহ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  বন্যার্তদের পাশে গাজীপুর, ৫ এমপির এক মাসের বেতন, সরকারি কর্মচারীদের একদিনের বেতন ত্রাণ তহবিলে

পরিবেশবিদ ও বন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে একই সঙ্গে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে বন সংরক্ষণ কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করলে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমানও উন্নত হবে।