Dhaka ০৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ছাগলে শাক খাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮ পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের অভিযান, আটক ১ টিকটক তারকা নয়, বানাতে চেয়েছিল যৌনকর্মী— ফরিদপুরে পাচারকারীর জেল মোকামতলায় ২ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার সোনাতলা পৌরসভায় ৫২ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজে ঠিকাদার নির্বাচন, অনলাইনে উন্মুক্ত লটারি অনুষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদে সোনাতলায় ফারিয়ার মানববন্ধন পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী  নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবিতে বালুয়াহাটে মানববন্ধন গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা ঈদ আনন্দে বাড়তি অবকাশ, স্কুল-কলেজে টানা ১৬ দিনের ছুটি

টিকটক তারকা নয়, বানাতে চেয়েছিল যৌনকর্মী— ফরিদপুরে পাচারকারীর জেল

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: ফরিদপুরে এক কিশোরীকে(১৬) টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রির দায়ে আদল কাজী (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে সশ্রম দুটি ধারায় পাঁচ বছর ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুটি ধারায়ই তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ছয়মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুটি সাজা একসঙ্গে ভোগ কার্যকর হওয়ায় তিনি সাত বছর কারাদণ্ড ভোগ করবেন।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের অভিযান, আটক ১

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আসামিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া একই আইনের ১১ ধারায় তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এবং টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকায় একটি পতিতালয়ে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল।

আরও পড়ুনঃ  নিকারের অনুমোদন পেল মোকামতলা উপজেলা, আনন্দে মুখর জনপদ

ঘটনাটি জানতে পেরে ২০২১ সালের ২৭ জুলাই রাতে র‍্যাব-৮ এর একটি দল রথখোলা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে আদল কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই রাতেই র‍্যাব-৮ এর ডিএডি মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আদল কাজী ছাড়াও সুমন ওরফে রাসেল নামের এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদে সোনাতলায় ফারিয়ার মানববন্ধন

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী প্রসাদ কুমার চাকী।  তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি আদল কাজী সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য এবং তিনি কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের সংগ্রহ করে দেহব্যবসায় বাধ্য করতেন। তবে মামলার অন্য আসামি সুমনের সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয় এবং কেবল আদল কাজীকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন,এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ছাগলে শাক খাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রীপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮

টিকটক তারকা নয়, বানাতে চেয়েছিল যৌনকর্মী— ফরিদপুরে পাচারকারীর জেল

আপডেটের সময়: ১২:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: ফরিদপুরে এক কিশোরীকে(১৬) টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রির দায়ে আদল কাজী (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে সশ্রম দুটি ধারায় পাঁচ বছর ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুটি ধারায়ই তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ছয়মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুটি সাজা একসঙ্গে ভোগ কার্যকর হওয়ায় তিনি সাত বছর কারাদণ্ড ভোগ করবেন।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  নিকারের অনুমোদন পেল মোকামতলা উপজেলা, আনন্দে মুখর জনপদ

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আসামিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া একই আইনের ১১ ধারায় তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এবং টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকায় একটি পতিতালয়ে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী 

ঘটনাটি জানতে পেরে ২০২১ সালের ২৭ জুলাই রাতে র‍্যাব-৮ এর একটি দল রথখোলা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে আদল কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই রাতেই র‍্যাব-৮ এর ডিএডি মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আদল কাজী ছাড়াও সুমন ওরফে রাসেল নামের এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রী প্রসাদ কুমার চাকী।  তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি আদল কাজী সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য এবং তিনি কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের সংগ্রহ করে দেহব্যবসায় বাধ্য করতেন। তবে মামলার অন্য আসামি সুমনের সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয় এবং কেবল আদল কাজীকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন,এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।