Dhaka ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে পালালেন সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা প্রতিশোধে অতীত ফেরে না, দেশ গড়াই হোক আমাদের লক্ষ্য’ — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় সংবাদপত্রের কালোদিবসে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান বিদেশ থেকে ফিরে ড্রাগন ফল চাষে সাফল্য, টেকনাফে বদলে গেল প্রবাসীর জীবন জমি নিয়ে বিরোধে সোনাতলায় সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৫ সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার  প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির আওতায় সোনাতলা পৌরসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন সোনাতলায় বিশেষ অভিযানে ১০ আসামি গ্রেপ্তার, গাঁজাসহ আটক ২ বগুড়ায় নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনে বনদস্যুর ভয় মাথায় নিয়েই জীবিকার সন্ধানে উপকূলের মানুষ

সংবাদ আজকাল নিউজ: জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে যেতে হয় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের। বাঘের আক্রমণ, বিষধর সাপের দংশন, বনদস্যুদের অপহরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই তারা নদী-খাল ও গভীর বনাঞ্চলে সংগ্রাম করে চলেছেন পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার আশায়।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কয়রা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বহু পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস সুন্দরবন। মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহের জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন বনজীবীরা। তবে প্রতিটি যাত্রাই তাদের জন্য যেন অনিশ্চিত এক জীবনযুদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  প্রতিশোধে অতীত ফেরে না, দেশ গড়াই হোক আমাদের লক্ষ্য’ — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্থানীয় জেলে ও মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোরে নৌকাযোগে তারা বনের গভীরে প্রবেশ করেন। দিনের পর দিন খাল ও জঙ্গলের ভেতরে অবস্থান করতে হয় তাদের। কখন কোথা থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণ আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার নদীর চর কিংবা গাছের নিচে লুকিয়ে থাকা বিষধর সাপের দংশনের ঘটনাও প্রায় ঘটে।

শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার জেলে আমজাদ শেখ বলেন, “আমরা জানি বনে গেলে জীবিত ফিরে না-ও আসতে পারি। তারপরও সংসারের জন্য যেতে হয়। মাছ না ধরলে ঘরে খাবার জোটে না।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা

অন্যদিকে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলেও অভিযোগ বনজীবীদের। অনেক সময় জেলে ও মৌয়ালদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কেউ কেউ মারধর ও নির্যাতনের শিকারও হন। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুন্দরবন নির্ভর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বনদস্যু দমনে নিয়মিত অভিযান, বনজীবীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

বনজীবীদেরও একই দাবি। তারা বলেন, সুন্দরবনে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা বাড়ানো জরুরি। তাদের ভাষায়, “আমরা দেশের সম্পদ রক্ষা করি, অথচ আমাদের জীবনই সবচেয়ে অনিরাপদ।

আরও পড়ুনঃ  দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

এ বিষয়ে বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশকারী জেলে ও বাওয়ালিদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কিছু অসাধু জেলে ও বাওয়ালি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হন বলেও জানান তারা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গাকের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে পালালেন সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা

সুন্দরবনে বনদস্যুর ভয় মাথায় নিয়েই জীবিকার সন্ধানে উপকূলের মানুষ

আপডেটের সময়: ০৫:৪১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সংবাদ আজকাল নিউজ: জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে যেতে হয় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের। বাঘের আক্রমণ, বিষধর সাপের দংশন, বনদস্যুদের অপহরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই তারা নদী-খাল ও গভীর বনাঞ্চলে সংগ্রাম করে চলেছেন পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার আশায়।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কয়রা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বহু পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস সুন্দরবন। মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহের জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন বনজীবীরা। তবে প্রতিটি যাত্রাই তাদের জন্য যেন অনিশ্চিত এক জীবনযুদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  ঠিকাদারের গাফিলতিতে একবছর যাবত ঝুলে থাকা সোনাতলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন

স্থানীয় জেলে ও মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোরে নৌকাযোগে তারা বনের গভীরে প্রবেশ করেন। দিনের পর দিন খাল ও জঙ্গলের ভেতরে অবস্থান করতে হয় তাদের। কখন কোথা থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণ আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার নদীর চর কিংবা গাছের নিচে লুকিয়ে থাকা বিষধর সাপের দংশনের ঘটনাও প্রায় ঘটে।

শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার জেলে আমজাদ শেখ বলেন, “আমরা জানি বনে গেলে জীবিত ফিরে না-ও আসতে পারি। তারপরও সংসারের জন্য যেতে হয়। মাছ না ধরলে ঘরে খাবার জোটে না।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় সংবাদপত্রের কালোদিবসে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান

অন্যদিকে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলেও অভিযোগ বনজীবীদের। অনেক সময় জেলে ও মৌয়ালদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কেউ কেউ মারধর ও নির্যাতনের শিকারও হন। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুন্দরবন নির্ভর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বনদস্যু দমনে নিয়মিত অভিযান, বনজীবীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

বনজীবীদেরও একই দাবি। তারা বলেন, সুন্দরবনে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা বাড়ানো জরুরি। তাদের ভাষায়, “আমরা দেশের সম্পদ রক্ষা করি, অথচ আমাদের জীবনই সবচেয়ে অনিরাপদ।

আরও পড়ুনঃ  জমি নিয়ে বিরোধে সোনাতলায় সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৫

এ বিষয়ে বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশকারী জেলে ও বাওয়ালিদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কিছু অসাধু জেলে ও বাওয়ালি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হন বলেও জানান তারা।