Dhaka ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর ভারতে মুসলিম নিপীড়নের প্রতিবাদে নরসিংদীতে বিক্ষোভ মিছিল নদী ভাঙন ঠেকাও, তেকানী-চুকাইনগর ইউনিয়ন বাঁচাও দাবিতে মানববন্ধন পিআইসিকে জিম্মি করে সড়ক নির্মাণে সাবেক চেয়ারম্যানের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সুন্দরবনে বনদস্যুর ভয় মাথায় নিয়েই জীবিকার সন্ধানে উপকূলের মানুষ সারিয়াকান্দিতে পুলিশের অভিযানে ৩ চোর-মাদক কারবারিসহ আটক ৮ বগুড়া-জয়পুরহাটকে নিজের বাড়ি মনে করি, সুরাইয়া জেরিন রনি এমপি শাহ আমানতে নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম ও ২২ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ ছিনতাই ও হুমকির অভিযোগে সাঘাটায় আটক ২ বগুড়ায় চার দফা দাবিতে শজিমেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

সুন্দরবনে বনদস্যুর ভয় মাথায় নিয়েই জীবিকার সন্ধানে উপকূলের মানুষ

সংবাদ আজকাল নিউজ: জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে যেতে হয় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের। বাঘের আক্রমণ, বিষধর সাপের দংশন, বনদস্যুদের অপহরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই তারা নদী-খাল ও গভীর বনাঞ্চলে সংগ্রাম করে চলেছেন পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার আশায়।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কয়রা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বহু পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস সুন্দরবন। মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহের জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন বনজীবীরা। তবে প্রতিটি যাত্রাই তাদের জন্য যেন অনিশ্চিত এক জীবনযুদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  পিআইসিকে জিম্মি করে সড়ক নির্মাণে সাবেক চেয়ারম্যানের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

স্থানীয় জেলে ও মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোরে নৌকাযোগে তারা বনের গভীরে প্রবেশ করেন। দিনের পর দিন খাল ও জঙ্গলের ভেতরে অবস্থান করতে হয় তাদের। কখন কোথা থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণ আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার নদীর চর কিংবা গাছের নিচে লুকিয়ে থাকা বিষধর সাপের দংশনের ঘটনাও প্রায় ঘটে।

শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার জেলে আমজাদ শেখ বলেন, “আমরা জানি বনে গেলে জীবিত ফিরে না-ও আসতে পারি। তারপরও সংসারের জন্য যেতে হয়। মাছ না ধরলে ঘরে খাবার জোটে না।

আরও পড়ুনঃ  মোকামতলায় ২ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

অন্যদিকে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলেও অভিযোগ বনজীবীদের। অনেক সময় জেলে ও মৌয়ালদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কেউ কেউ মারধর ও নির্যাতনের শিকারও হন। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুন্দরবন নির্ভর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বনদস্যু দমনে নিয়মিত অভিযান, বনজীবীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

বনজীবীদেরও একই দাবি। তারা বলেন, সুন্দরবনে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা বাড়ানো জরুরি। তাদের ভাষায়, “আমরা দেশের সম্পদ রক্ষা করি, অথচ আমাদের জীবনই সবচেয়ে অনিরাপদ।

আরও পড়ুনঃ  টেকনাফে পুলিশের অভিযানে শীর্ষ মানবপাচারকারী শাকের আটক

এ বিষয়ে বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশকারী জেলে ও বাওয়ালিদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কিছু অসাধু জেলে ও বাওয়ালি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হন বলেও জানান তারা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর

সুন্দরবনে বনদস্যুর ভয় মাথায় নিয়েই জীবিকার সন্ধানে উপকূলের মানুষ

আপডেটের সময়: ০৫:৪১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সংবাদ আজকাল নিউজ: জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনে যেতে হয় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের। বাঘের আক্রমণ, বিষধর সাপের দংশন, বনদস্যুদের অপহরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই তারা নদী-খাল ও গভীর বনাঞ্চলে সংগ্রাম করে চলেছেন পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার আশায়।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কয়রা উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বহু পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস সুন্দরবন। মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহের জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন বনজীবীরা। তবে প্রতিটি যাত্রাই তাদের জন্য যেন অনিশ্চিত এক জীবনযুদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  পিআইসিকে জিম্মি করে সড়ক নির্মাণে সাবেক চেয়ারম্যানের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

স্থানীয় জেলে ও মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোরে নৌকাযোগে তারা বনের গভীরে প্রবেশ করেন। দিনের পর দিন খাল ও জঙ্গলের ভেতরে অবস্থান করতে হয় তাদের। কখন কোথা থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আক্রমণ আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবার নদীর চর কিংবা গাছের নিচে লুকিয়ে থাকা বিষধর সাপের দংশনের ঘটনাও প্রায় ঘটে।

শ্যামনগরের গাবুরা এলাকার জেলে আমজাদ শেখ বলেন, “আমরা জানি বনে গেলে জীবিত ফিরে না-ও আসতে পারি। তারপরও সংসারের জন্য যেতে হয়। মাছ না ধরলে ঘরে খাবার জোটে না।

আরও পড়ুনঃ  ঝালকাঠিতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচার দাবিতে সভা ও বিক্ষোভ মিছিল

অন্যদিকে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলেও অভিযোগ বনজীবীদের। অনেক সময় জেলে ও মৌয়ালদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কেউ কেউ মারধর ও নির্যাতনের শিকারও হন। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুন্দরবন নির্ভর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বনদস্যু দমনে নিয়মিত অভিযান, বনজীবীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

বনজীবীদেরও একই দাবি। তারা বলেন, সুন্দরবনে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা বাড়ানো জরুরি। তাদের ভাষায়, “আমরা দেশের সম্পদ রক্ষা করি, অথচ আমাদের জীবনই সবচেয়ে অনিরাপদ।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়া-জয়পুরহাটকে নিজের বাড়ি মনে করি, সুরাইয়া জেরিন রনি এমপি

এ বিষয়ে বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশকারী জেলে ও বাওয়ালিদের নিরাপত্তায় বন বিভাগের সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কিছু অসাধু জেলে ও বাওয়ালি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হন বলেও জানান তারা।