Dhaka ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শীতলক্ষ্যার ঘাটে ময়লার পাহাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন ৪০ বছর পর দখলমুক্ত শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪১ শতক জমি ফরিদপুরে বিকল ট্রাক সারতে গিয়ে বাসচাপায় বাবা-ছেলের মৃত্যু পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন, নতুন অধ্যায়ে বগুড়া বগুড়ায় কুরবানির জন্য প্রস্তুত ৭ লাখ ৪০ হাজার পশু ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর ভারতে মুসলিম নিপীড়নের প্রতিবাদে নরসিংদীতে বিক্ষোভ মিছিল নদী ভাঙন ঠেকাও, তেকানী-চুকাইনগর ইউনিয়ন বাঁচাও দাবিতে মানববন্ধন পিআইসিকে জিম্মি করে সড়ক নির্মাণে সাবেক চেয়ারম্যানের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সুন্দরবনে বনদস্যুর ভয় মাথায় নিয়েই জীবিকার সন্ধানে উপকূলের মানুষ

বগুড়ায় কুরবানির জন্য প্রস্তুত ৭ লাখ ৪০ হাজার পশু

বগুড়া প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র ১৪ দিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে বগুড়া জেলার খামার ও কৃষকের উঠানে প্রস্তুত করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক কুরবানির পশু। এ বছর জেলায় ৫ হাজার ২০০টি খামারে মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর জেলায় কুরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি পশু। সেই হিসেবে এবার প্রস্তুত পশুর সংখ্যা কমেছে ৬ হাজার ৩০৫টি। একই সঙ্গে কুরবানির পশুর চাহিদাও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছর যেখানে চাহিদা ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার ২৬০টি পশু, সেখানে এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টিতে। অর্থাৎ চাহিদা কমেছে প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০টি পশুর।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় চার দফা দাবিতে শজিমেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯০৪টি ষাঁড়, ৪২ হাজার ৩২৮টি বলদ, ৬৩ হাজার ৫৫২টি গাভীসহ মোট গরু ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৪টি। এছাড়া রয়েছে ২ হাজার ১৫৫টি মহিষ, ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি ছাগল এবং ৫৪ হাজার ২৯টি ভেড়া। প্রাণিসম্পদ বিভাগের দাবি, জেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

খামারিরা জানান, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর বা ভেজাল খাদ্য ব্যবহার করা হয়নি। আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যার পাশাপাশি ক্রেতাদের সুবিধার্থে অনেক খামার থেকেই সরাসরি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পশু পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে বাজারে যাওয়ার ঝামেলা কমছে এবং কেনাবেচাও বাড়ছে বলে জানান তারা।

তবে খামারিদের অভিযোগ, গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। ভুষি, খৈল, ধানের কুড়া, খড় ও ঘাসসহ বিভিন্ন খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি গরু প্রস্তুতে খরচ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  রংপুরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আধুনিক কসাইখানা, চলছে পরীক্ষামূলক জবাই

বগুড়া সদরের নেংড়া বাজার এলাকার “এ্যাগ্রো ভেঞ্চার” খামারের ম্যানেজার এহসানুল হক জানান, তাদের খামারে বর্তমানে ১০০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪৪টি গরু এবং ইতোমধ্যে ৬টি বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের খামারের ষাঁড়ের দাম ২ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত বছর থেকে কুরবানির জন্য বাণিজ্যিকভাবে গরু লালন-পালন শুরু করেছেন তারা। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশি প্রজাতির বড় আকারের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঝালকাঠিতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচার দাবিতে সভা ও বিক্ষোভ মিছিল

গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার কুরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ কৃষকরাও লাভের আশায় বাড়িতে গরু পালন করছেন। ফলে জেলায় পশু উৎপাদনের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে কুরবানির পশুর হাটে জমে উঠেছে কেনাবেচা। ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা বেশি হলেও বাজারে ছোট-বড় সব ধরনের গরুর চাহিদা রয়েছে এবং বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।

বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রায়হান জানান, নিরাপদ কুরবানির পশু নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খামারিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি হাট-বাজারে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো রোগাক্রান্ত পশু বিক্রি না হয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শীতলক্ষ্যার ঘাটে ময়লার পাহাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন

বগুড়ায় কুরবানির জন্য প্রস্তুত ৭ লাখ ৪০ হাজার পশু

আপডেটের সময়: ১২:০০:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

বগুড়া প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র ১৪ দিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে বগুড়া জেলার খামার ও কৃষকের উঠানে প্রস্তুত করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক কুরবানির পশু। এ বছর জেলায় ৫ হাজার ২০০টি খামারে মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর জেলায় কুরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি পশু। সেই হিসেবে এবার প্রস্তুত পশুর সংখ্যা কমেছে ৬ হাজার ৩০৫টি। একই সঙ্গে কুরবানির পশুর চাহিদাও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছর যেখানে চাহিদা ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার ২৬০টি পশু, সেখানে এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টিতে। অর্থাৎ চাহিদা কমেছে প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০টি পশুর।

আরও পড়ুনঃ  ঝালকাঠিতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচার দাবিতে সভা ও বিক্ষোভ মিছিল

প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯০৪টি ষাঁড়, ৪২ হাজার ৩২৮টি বলদ, ৬৩ হাজার ৫৫২টি গাভীসহ মোট গরু ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৪টি। এছাড়া রয়েছে ২ হাজার ১৫৫টি মহিষ, ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি ছাগল এবং ৫৪ হাজার ২৯টি ভেড়া। প্রাণিসম্পদ বিভাগের দাবি, জেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

খামারিরা জানান, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর বা ভেজাল খাদ্য ব্যবহার করা হয়নি। আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যার পাশাপাশি ক্রেতাদের সুবিধার্থে অনেক খামার থেকেই সরাসরি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পশু পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে বাজারে যাওয়ার ঝামেলা কমছে এবং কেনাবেচাও বাড়ছে বলে জানান তারা।

তবে খামারিদের অভিযোগ, গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। ভুষি, খৈল, ধানের কুড়া, খড় ও ঘাসসহ বিভিন্ন খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি গরু প্রস্তুতে খরচ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর

বগুড়া সদরের নেংড়া বাজার এলাকার “এ্যাগ্রো ভেঞ্চার” খামারের ম্যানেজার এহসানুল হক জানান, তাদের খামারে বর্তমানে ১০০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪৪টি গরু এবং ইতোমধ্যে ৬টি বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের খামারের ষাঁড়ের দাম ২ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গত বছরের তুলনায় এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত বছর থেকে কুরবানির জন্য বাণিজ্যিকভাবে গরু লালন-পালন শুরু করেছেন তারা। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশি প্রজাতির বড় আকারের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রংপুরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আধুনিক কসাইখানা, চলছে পরীক্ষামূলক জবাই

গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার কুরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি গ্রামের সাধারণ কৃষকরাও লাভের আশায় বাড়িতে গরু পালন করছেন। ফলে জেলায় পশু উৎপাদনের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে কুরবানির পশুর হাটে জমে উঠেছে কেনাবেচা। ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা বেশি হলেও বাজারে ছোট-বড় সব ধরনের গরুর চাহিদা রয়েছে এবং বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।

বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রায়হান জানান, নিরাপদ কুরবানির পশু নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খামারিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি হাট-বাজারে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো রোগাক্রান্ত পশু বিক্রি না হয়।