
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় বালুয়াহাট বাসস্ট্যান্ডে নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে ২০২৬) বিকেলে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নুসরাতের মা রিমুশী বেগমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক ও সাধারণ জনগণ। এসময় বক্তারা বলেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করে একজন নারীকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা জঘন্য অপরাধ। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর রেজিস্ট্রিকৃত কাবিননামা মূলে নুসরাতের সঙ্গে মোঃ নাজির হোসেন নাইম (৩১), পিতা- মোঃ মোশাররফ হোসেন খোকা, গ্রাম- উত্তর আটকরিয়া-এর বিবাহ সম্পন্ন হয়। তবে সংসার জীবনে বনিবনা না হওয়া, যৌতুকের দাবি ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই নুসরাত তাকে তালাক প্রদান করেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা ধমকপাড়া এলাকার মোঃ আবু সাইদ (২৬), পিতা- মোঃ বাদশা শেখ-এর সঙ্গে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা কাবিনে নুসরাতের দ্বিতীয় বিবাহ হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রথম স্বামী নাইম পরিকল্পিতভাবে নুসরাতের গোপনে ধারণ করা ব্যক্তিগত ভিডিও সংগ্রহে রেখে দ্বিতীয় স্বামী আবু সাইদের কাছে পাঠান। ভিডিওগুলো দেখার পর আবু সাইদ নুসরাতের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অসম্মানজনক ব্যবহার শুরু করেন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সামাজিক অপমান, মানসিক চাপ ও পারিবারিক অশান্তির কারণে নুসরাত চরম হতাশায় ভুগছিলেন। এরই একপর্যায়ে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তিনি আত্মহত্যা করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এটি শুধুমাত্র আত্মহত্যার ঘটনা নয়, বরং একজন নারীকে পরিকল্পিতভাবে মানসিক নির্যাতন ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার নির্মম পরিণতি। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
প্রতিবেদকের নাম 

















