Dhaka ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বগুড়া চেম্বারের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান চসিক মেয়রের উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি, সতর্কতায় কুড়িগ্রাম ইয়াবাসহ আটক কিশোর মুক্তি, ওসি-ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্যে অসঙ্গতি উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, উদ্ধার অভিযান ব্যাহত মাদকমুক্ত সাঘাটা গড়তে যুব সমাজের গণমিছিল, কঠোর বার্তা পুলিশের মধুখালীতে ব্যবসায়ীর ওপর নৃশংস হামলা, দুই হাত কুপিয়ে টাকা ছিনতাই জয়পুরহাট সীমান্তে ভারতে পাচারকালে ১০ স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক বগুড়া বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, নতুন কমিটি ঘোষণা নন্দীগ্রামে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার গ্রেপ্তার

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, উদ্ধার অভিযান ব্যাহত

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পরপর দুটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৭ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও সাত জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হওয়ায় উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৩ জন জেলেকে নিয়ে মো. তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন এফবি মহিমা নামের ট্রলারটি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। পরে আরেকটি ট্রলার থেকে পাঁচজন জেলে ওই ট্রলারে ওঠেন। মাছ ধরে ফেরার পথে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে পড়লে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার সময় জেলে কালাম ও শহীদ ট্রলারের কেবিনে অবস্থান করায় তারা ভেতরে আটকা পড়ে তলিয়ে যান। অন্য জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে রাত প্রায় ৩টার দিকে দুটি মাছধরা ট্রলার তাদের উদ্ধার করে। এর মধ্যে একটি ট্রলার ১২ জন এবং অপরটি চারজন জেলেকে উদ্ধার করে নিরাপদে ঘাটে নিয়ে আসে।

আরও পড়ুনঃ  উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি, সতর্কতায় কুড়িগ্রাম

উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলের মধ্যে রয়েছেন দুলাল মাঝি, কামাল, মনির, ইমরান, জামাল, শামীম, খলিল, হৃদয়, আশরাফুল, ফারুক ও আল-আমিনসহ অন্যরা। তারা সবাই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। নিখোঁজ কালাম ও শহীদও একই এলাকার বাসিন্দা।

ট্রলারের মালিক মো. তপন জোমাদ্দার জানান, হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে চেষ্টা চালানো হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান চসিক মেয়রের

ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, গভীর সমুদ্রে থাকা অন্যান্য ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে ট্রলার প্রস্তুত থাকলেও উত্তাল সাগরের কারণে সমুদ্রে যেতে পারছে না।

তালতলী কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম জানান, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলের চিকিৎসা ও সার্বিক বিষয়ে প্রশাসন নজর রাখছে।

এদিকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চর বিজয় সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় আরও একটি ছোট ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর পাঁচ জেলের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।

আরও পড়ুনঃ  পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান চসিক মেয়রের

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে থাকা মাছধরা ট্রলারগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড প্রস্তুত রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলেই উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বগুড়া চেম্বারের নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, উদ্ধার অভিযান ব্যাহত

আপডেটের সময়: ০৬:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

সংবাদ আজকাল ডেস্ক: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পরপর দুটি মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৭ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও সাত জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হওয়ায় উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৩ জন জেলেকে নিয়ে মো. তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন এফবি মহিমা নামের ট্রলারটি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। পরে আরেকটি ট্রলার থেকে পাঁচজন জেলে ওই ট্রলারে ওঠেন। মাছ ধরে ফেরার পথে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে পড়লে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার সময় জেলে কালাম ও শহীদ ট্রলারের কেবিনে অবস্থান করায় তারা ভেতরে আটকা পড়ে তলিয়ে যান। অন্য জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে রাত প্রায় ৩টার দিকে দুটি মাছধরা ট্রলার তাদের উদ্ধার করে। এর মধ্যে একটি ট্রলার ১২ জন এবং অপরটি চারজন জেলেকে উদ্ধার করে নিরাপদে ঘাটে নিয়ে আসে।

আরও পড়ুনঃ  পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান চসিক মেয়রের

উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলের মধ্যে রয়েছেন দুলাল মাঝি, কামাল, মনির, ইমরান, জামাল, শামীম, খলিল, হৃদয়, আশরাফুল, ফারুক ও আল-আমিনসহ অন্যরা। তারা সবাই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। নিখোঁজ কালাম ও শহীদও একই এলাকার বাসিন্দা।

ট্রলারের মালিক মো. তপন জোমাদ্দার জানান, হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে চেষ্টা চালানো হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি, সতর্কতায় কুড়িগ্রাম

ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, গভীর সমুদ্রে থাকা অন্যান্য ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে ট্রলার প্রস্তুত থাকলেও উত্তাল সাগরের কারণে সমুদ্রে যেতে পারছে না।

তালতলী কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম জানান, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলের চিকিৎসা ও সার্বিক বিষয়ে প্রশাসন নজর রাখছে।

এদিকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চর বিজয় সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় আরও একটি ছোট ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর পাঁচ জেলের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।

আরও পড়ুনঃ  উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি, সতর্কতায় কুড়িগ্রাম

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে থাকা মাছধরা ট্রলারগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড প্রস্তুত রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলেই উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।