
নিউজ ডেস্ক: বগুড়ার সোনাতলায় অবৈধভাবে সরকারি বরাদ্দের সার অন্যত্র পাচারের অভিযোগে ৩৮ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দ করা সার স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নির্ধারিত মূল্যে বিতরণ করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সোনাতলা পৌরসভার ঘোড়াপীর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ২০ বস্তা ইউরিয়া ও ১৮ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি করে সার ছিল। জব্দ করা সার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র শীলের জিম্মায় নেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল মিয়া এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন এর উপস্থিতিতে জব্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল মিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দ করা ৩৮ বস্তা সার প্রায় ১৯ জন স্থানীয় কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ইউরিয়া সার প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং ডিএপি সার প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা দরে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ হিসাবে ২০ বস্তা ইউরিয়ার মূল্য ২৭ হাজার টাকা এবং ১৮ বস্তা ডিএপির মূল্য ১৮ হাজার ৯০০ টাকা—মোট ৪৫ হাজার ৯০০ টাকা। এ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অধিক লাভের আশায় সরকারি বরাদ্দের সার বগুড়া জেলার মোকামতলা থেকে পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
অভিযান প্রসঙ্গে সোনাতলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল মিয়া বলেন, সরকারি সার অবৈধভাবে পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী পলাতক রয়েছেন। অজ্ঞাত পরিবহনকারীদের জরিমানা করা হয়েছে। কৃষকের বরাদ্দের সার নিয়ে যেকোনো অনিয়ম বা পাচারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি ভর্তুকি ও বরাদ্দের সার যাতে নির্ধারিত কৃষকদের কাছে পৌঁছে এবং অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















