Dhaka ০৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সারিয়াকান্দিতে ক্রয়কৃত জমি দখল ও খাস জমি দিয়ে মেটানোর অভিযোগ, তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি সোনাতলায় নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ করছেন ঢাবি অধ্যাপক আহসান হাবিব সোনাতলায় জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, মারামারিতে আহত ৩ নারী; থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পার্বতীপুরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কমল চন্দ্রের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বগুড়ায় পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিটিতে সোনাতলার আব্দুর রাজ্জাক রুবেল সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধানক্ষেত থেকে শিশু ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা চাঁদাবাজ-দখলদারদের যায়গা বিএনপিতে নেই

সোনাতলায় নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ করছেন ঢাবি অধ্যাপক আহসান হাবিব

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৫:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২০ সময় দেখুন

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পরিচালনার পাশাপাশি অসহায় মানুষের সহায়তায়ও ভূমিকা রাখছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে চরপাড়া বাজারসংলগ্ন নানার বাড়ির এলাকায় নির্মাণাধীন মসজিদটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) চারতলা ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মাণাধীন মসজিদটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মসজিদ নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. মো. আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের পারমাণবিক যুদ্ধের প্রভাব নিরূপণবিষয়ক বৈজ্ঞানিক প্যানেলের একজন প্যানেল সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় শিশু ইউসুফ হত্যা মামলায় মা গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার চরপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ শতক জমি কিনে মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে। জমিটির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। মসজিদটির নির্মাণকাজে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নির্মাণকাজ এখনো চলমান রয়েছে।

মসজিদ নির্মাণে বাইরের অনুদান গ্রহণ না করার বিষয়ে সেখানে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আহসান হাবিব জানান, নির্মাণকাজের শুরুর দিকে মসজিদ নির্মাণের কথা বলে কিছু অসাধু ব্যক্তি মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধ এবং অনুদান সংগ্রহের নামে অপব্যবহার এড়াতেই সাইনবোর্ডটি টাঙানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, মারামারিতে আহত ৩ নারী; থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

তিনি জানান, মসজিদটির নির্মাণকাজে মূলত নিজের অর্থ ব্যয় করছেন তিনি। তবে বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা অনুদান নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন অধ্যাপক আহসান হাবিব। জানা গেছে, ২০০১ সাল থেকে তিনি নিজের অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আসছেন। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারেও রয়েছে তাঁর উদ্যোগ।

১৯৯৭ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতের বাইগুনি গ্রামে তাঁর দাদার জমির ওপর একটি মক্তব-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বও পালন করে আসছেন। এর মাধ্যমে এলাকার শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সারিয়াকান্দিতে ক্রয়কৃত জমি দখল ও খাস জমি দিয়ে মেটানোর অভিযোগ, তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি

ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখছেন অধ্যাপক আহসান হাবিব। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি ঈদে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা করেন তিনি। তাঁর এ সহায়তায় উপকৃত হন বিভিন্ন দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা।

মসজিদ নির্মাণ, মক্তব-মাদ্রাসা পরিচালনা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগের কারণে স্থানীয়দের কাছে দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন আহসান হাবিব।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ শেষ হলে মসজিদটি স্থানীয় মুসল্লিদের নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সারিয়াকান্দিতে ক্রয়কৃত জমি দখল ও খাস জমি দিয়ে মেটানোর অভিযোগ, তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি

সোনাতলায় নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ করছেন ঢাবি অধ্যাপক আহসান হাবিব

আপডেটের সময়: ০৫:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পরিচালনার পাশাপাশি অসহায় মানুষের সহায়তায়ও ভূমিকা রাখছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে চরপাড়া বাজারসংলগ্ন নানার বাড়ির এলাকায় নির্মাণাধীন মসজিদটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) চারতলা ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মাণাধীন মসজিদটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মসজিদ নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. মো. আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের পারমাণবিক যুদ্ধের প্রভাব নিরূপণবিষয়ক বৈজ্ঞানিক প্যানেলের একজন প্যানেল সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ, মারামারিতে আহত ৩ নারী; থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার চরপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ শতক জমি কিনে মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে। জমিটির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। মসজিদটির নির্মাণকাজে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নির্মাণকাজ এখনো চলমান রয়েছে।

মসজিদ নির্মাণে বাইরের অনুদান গ্রহণ না করার বিষয়ে সেখানে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আহসান হাবিব জানান, নির্মাণকাজের শুরুর দিকে মসজিদ নির্মাণের কথা বলে কিছু অসাধু ব্যক্তি মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধ এবং অনুদান সংগ্রহের নামে অপব্যবহার এড়াতেই সাইনবোর্ডটি টাঙানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সারিয়াকান্দিতে ক্রয়কৃত জমি দখল ও খাস জমি দিয়ে মেটানোর অভিযোগ, তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি

তিনি জানান, মসজিদটির নির্মাণকাজে মূলত নিজের অর্থ ব্যয় করছেন তিনি। তবে বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা অনুদান নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন অধ্যাপক আহসান হাবিব। জানা গেছে, ২০০১ সাল থেকে তিনি নিজের অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আসছেন। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারেও রয়েছে তাঁর উদ্যোগ।

১৯৯৭ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতের বাইগুনি গ্রামে তাঁর দাদার জমির ওপর একটি মক্তব-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বও পালন করে আসছেন। এর মাধ্যমে এলাকার শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় দুই দুর্গামন্দিরের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে উপহার বিতরণ

ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখছেন অধ্যাপক আহসান হাবিব। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি ঈদে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা করেন তিনি। তাঁর এ সহায়তায় উপকৃত হন বিভিন্ন দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা।

মসজিদ নির্মাণ, মক্তব-মাদ্রাসা পরিচালনা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগের কারণে স্থানীয়দের কাছে দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন আহসান হাবিব।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ শেষ হলে মসজিদটি স্থানীয় মুসল্লিদের নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।