
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ইউসুফ আলী (৭) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের বড়বালুয়া গ্রামে একটি ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাকে খুঁজছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহত ইউসুফ আলী তার মা রিনি বেগম ও সৎবাবা উজ্জল হোসেনের সঙ্গে সোনাতলা উপজেলার বড়বালুয়া গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর (রোববার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ইউসুফ নিখোঁজ হয়। পরে তার সৎবাবা উজ্জল হোসেন ১২ অক্টোবর সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের তিন দিন পর বুধবার ভাড়া বাসার পূর্ব পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইউসুফের মা মোছা. রিনি বেগম সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের বড়বালুয়া গ্রামের মো. মুকুল মিয়ার মেয়ে। তার প্রথম বিয়ে হয়েছিল বগুড়া সদরের ফাঁপোর ইউনিয়নের কামারগাড়ী গ্রামের মো. বুদা মিয়ার ছেলে পলাশ মিয়ার সঙ্গে। ওই সংসারে ইউসুফের জন্ম হয়। পরে পলাশ দ্বিতীয় বিয়ে করলে প্রায় দেড় বছর আগে রিনি বেগমের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
বিবাহবিচ্ছেদের পর ছেলে ইউসুফকে নিয়ে রিনি বেগম বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। প্রায় সাত-আট মাস আগে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দারিদহ এলাকার ময়দানহাটা গ্রামের উজ্জল হোসেনের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রিনি বেগম ও উজ্জল হোসেন সোনাতলার বড়বালুয়া গ্রামের এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ইউসুফও তাদের সঙ্গে থাকত। ওই বাসায় বসবাসের সময়ই শিশুটি নিখোঁজ হয়।
সোনাতলা থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধানক্ষেতে পড়ে থাকা মরদেহটি দেখতে পায়। এ সময় শিশুটির মা রিনি বেগম ও নানা মুকুল মিয়া মরদেহটি নিখোঁজ ইউসুফের বলে শনাক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 

















