
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় এক ব্যবসায়ীর কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর, দোকান ভাঙচুর ও নগদ ২ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে তার বসতবাড়িতেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ শাফিউল ইসলাম।
অভিযোগকারী শাফিউল ইসলাম সোনাতলা উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের মোঃ শাহ আলমের ছেলে। তিনি সদ্য বিলুপ্ত পৌর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বর্তমান পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। কামারপাড়া বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি মুদি দোকান পরিচালনা করে আসছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে শাফিউল ইসলাম বলেন, মোঃ সাইফুল ইসলাম ওরফে গুটলু, মোঃ রাসেল ও মোঃ সালমান শাহ বিভিন্ন সময় তার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখানোসহ দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
শাফিউলের অভিযোগ, গত ২ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ওই তিন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ তার দোকানে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে হুমকি দিয়ে তারা চলে যান।
পরদিন ৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তারা আবারও দোকানে এসে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন শাফিউল। এবারও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং দোকানের মালামাল ভাঙচুর করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ওরফে গুটলু তার দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ব্যবসার নগদ ২ লাখ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাফিউল আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরে তারা তার বাড়িতে গিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে শাফিউল বলেন, বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পর তিনি আইনগত সহায়তার জন্য থানায় অভিযোগ করেছেন।
সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে শাফিউল ইসলাম বলেন, “আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে অভিযোগ করছি না। আমি চাই, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং আমার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রতিবেদকের নাম 








