Dhaka ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোনাতলায় মাদক, বাল্যবিবাহ ও কিশোরগ্যাং প্রতিরোধে উঠান বৈঠক সোনাতলায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের সদস্য স্নিগ্ধ সিকদার গ্রেপ্তার মোকামতলায় ৬০০ পিস ইয়াবাসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার মুক্তিযোদ্ধা মনছুর আলী ক্যাপ্টেনের পরিবার আজ নিঃস্ব, মুক্তিযোদ্দা ভাতা চালুর দাবি সোনাতলায় মাসিক সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত মাদকের বিরুদ্ধে সারিয়াকান্দি পুলিশের অভিযান, ৮ মাসে গ্রেপ্তার ২৬০ সোনাতলায় স্মরণিকা হোটেলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, ৫০ কেজি মিষ্টি ধ্বংস সোনাতলায় জাহাঙ্গীর আলম গুড ম্যর্নিং কেজি স্কুলের টিনশেড ঘর থেকে ৬ সিলিং ফ্যান চুরি, তথ্য দিলে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের সদস্য স্নিগ্ধ সিকদার গ্রেপ্তার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০২:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৪ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে একাধিক জুয়া সাইটের এজেন্ট হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানিয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভোর ৫টার দিকে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্নিগ্ধ সিকদার (৩১) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটী ইউনিয়নের বালিয়াট গ্রামের স্বপন কুমার সিকদারের ছেলে।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, স্নিগ্ধ সিকদার একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের পরিচালনা ও এজেন্ট কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়া সাইটের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারের পাশাপাশি ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে এবং অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ  ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইটের এজেন্টদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। পরে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টদের কমিশন পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

সিআইডির দাবি, এর আগে গত ১৩ জুলাই এ মামলার অপর আসামি সুমন রায় (২৮) গ্রেপ্তার হন। প্রাথমিক তদন্তে তাকে আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং ও অবৈধ জুয়া চক্রের বাংলাদেশ অংশের অন্যতম সমন্বয়কারী এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় জাহাঙ্গীর আলম গুড ম্যর্নিং কেজি স্কুলের টিনশেড ঘর থেকে ৬ সিলিং ফ্যান চুরি, তথ্য দিলে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা

সিআইডি আরও জানায়, সুমন রায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে সহযোগী হিসেবে স্নিগ্ধ সিকদারের নাম আসে বলে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তে স্নিগ্ধ সিকদারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি সূত্রে আরও জানা যায়, এ মামলায় গত ৭ জুন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান, মো. সাগর মিয়া ও মো. জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মো. রায়হান খান, মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া ও আবু জোবায়ের সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া ১২ জুলাই নড়াইল থেকে মো. জসিম উদ্দিন ও সুমন রায়, ১৯ আগস্ট রাজশাহী থেকে সৈয়দ জামান ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী এবং ১৩ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাবলু মিয়া, মো. মনির হোসেন, নূর সাফায়েত ইপ্তি ও শামীম আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে সিআইডি।

আরও পড়ুনঃ  দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, সোনাতলায় বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি অনুমোদন

সিআইডি জানায়, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অবৈধ লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশি-বিদেশি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রমে অর্থ লেনদেন না করার এবং অনলাইন জুয়া বা অর্থপাচার সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

Tag :

সোনাতলায় মাদক, বাল্যবিবাহ ও কিশোরগ্যাং প্রতিরোধে উঠান বৈঠক

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের সদস্য স্নিগ্ধ সিকদার গ্রেপ্তার

আপডেটের সময়: ০২:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে একাধিক জুয়া সাইটের এজেন্ট হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানিয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভোর ৫টার দিকে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্নিগ্ধ সিকদার (৩১) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটী ইউনিয়নের বালিয়াট গ্রামের স্বপন কুমার সিকদারের ছেলে।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, স্নিগ্ধ সিকদার একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের পরিচালনা ও এজেন্ট কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়া সাইটের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারের পাশাপাশি ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে এবং অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ  দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, সোনাতলায় বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি অনুমোদন

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইটের এজেন্টদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। পরে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টদের কমিশন পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

সিআইডির দাবি, এর আগে গত ১৩ জুলাই এ মামলার অপর আসামি সুমন রায় (২৮) গ্রেপ্তার হন। প্রাথমিক তদন্তে তাকে আন্তর্জাতিক অনলাইন বেটিং ও অবৈধ জুয়া চক্রের বাংলাদেশ অংশের অন্যতম সমন্বয়কারী এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত

সিআইডি আরও জানায়, সুমন রায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে সহযোগী হিসেবে স্নিগ্ধ সিকদারের নাম আসে বলে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তে স্নিগ্ধ সিকদারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি সূত্রে আরও জানা যায়, এ মামলায় গত ৭ জুন টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সোলায়মান, মো. সাগর মিয়া ও মো. জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মো. রায়হান খান, মো. পাভেল রহমান ভূঁইয়া ও আবু জোবায়ের সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া ১২ জুলাই নড়াইল থেকে মো. জসিম উদ্দিন ও সুমন রায়, ১৯ আগস্ট রাজশাহী থেকে সৈয়দ জামান ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পী এবং ১৩ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাবলু মিয়া, মো. মনির হোসেন, নূর সাফায়েত ইপ্তি ও শামীম আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে সিআইডি।

আরও পড়ুনঃ  সোনাতলায় জাহাঙ্গীর আলম গুড ম্যর্নিং কেজি স্কুলের টিনশেড ঘর থেকে ৬ সিলিং ফ্যান চুরি, তথ্য দিলে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা

সিআইডি জানায়, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অবৈধ লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশি-বিদেশি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রমে অর্থ লেনদেন না করার এবং অনলাইন জুয়া বা অর্থপাচার সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।