সংবাদ আজকাল ডেস্কঃ যমুনা সেতুর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে যমুনা নদীতে বিকল্প দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সেতু মন্ত্রণালয়। এই প্রেক্ষাপটে বগুড়ার সারিয়াকান্দি দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম। গত রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সারিয়াকান্দি অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যা হচ্ছে যমুনা নদীর ভাঙন। নদীভাঙনের কারণে স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। তিনি এ সমস্যা থেকে স্থায়ী সমাধান চান এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগসহ মৌলিক অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে চরাঞ্চলে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন, একটি শস্য হিমাগার নির্মাণ, সোনাতলা ও সারিয়াকান্দির সড়ক প্রশস্তকরণ এবং সোনাতলা ও মোকামতলায় বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন।
এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বর্তমানে যমুনা সেতু দিয়ে উত্তরবঙ্গের বিশাল জনগোষ্ঠী যাতায়াত করে। বিশেষ করে ঈদের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে লাখো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ পরিস্থিতি এড়াতে সারিয়াকান্দি হয়ে মাদারগঞ্জ নৌরুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মাণ হলে বগুড়া থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে সময় ও অর্থ—উভয়ই সাশ্রয় হবে এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি পৌর বিএনপির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সনি বলেন, সংসদে সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার উন্নয়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করায় স্থানীয় জনগণ এমপি কাজী রফিকুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর দাবি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সঙ্গে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
তিনি আরও বলেন, এতে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে। পাশাপাশি যমুনা সেতুর ওপর চাপ কমে যানজট নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে প্রস্তাবিত এ সেতু।