নিউজ ডেস্ক: ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন ঘাটে দিন দিন বাড়ছে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো বিশ্বরোড, রূপসী, বরপা, ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে এবং শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পঁচা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন ও তারাবো এলাকার খেয়াঘাটের পাশে পাহাড়সম ময়লার স্তূপ জমে রয়েছে। শিল্পকারখানা, হাট-বাজার ও পৌরসভার বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় প্রতিদিন এসব আবর্জনা সরাসরি নদীর তীর ও ঘাট এলাকায় ফেলা হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানিতে ময়লা ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। দুর্গন্ধ এড়াতে নাকে-মুখে রুমাল চেপে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। বৃষ্টির দিনে কাদাপানির সঙ্গে ময়লা মিশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, আবর্জনার স্তূপে কুকুর ও পশুপাখির বিচরণে দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। নদীর পানিও দূষিত হয়ে পড়ায় গোসল ও দৈনন্দিন ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে।
খেয়াঘাট ও মহাসড়কের পাশে ছড়িয়ে থাকা পঁচা খাবার, প্লাস্টিক, ফলের খোসা, গৃহস্থালি ও বাজারের বর্জ্যে পুরো এলাকা অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। এতে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, আমাশয় ও শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
কাঞ্চন বাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, “ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় সবাই বাধ্য হয়ে নদীর তীরেই বর্জ্য ফেলছে। পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন হলে এ সমস্যা থাকত না।
স্থানীয় শিক্ষক এনামুল হক সিকদার বলেন, “শীতলক্ষ্যা নদী রক্ষায় দ্রুত আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার ও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ জরুরি।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভি ফেরদৌস বলেন, “ময়লা-আবর্জনা থেকে ভাইরাস ও জীবাণু ছড়িয়ে নানা রোগের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থায় থাকলে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
কাঞ্চন পৌর প্রশাসক ও রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মারজানুর রহমান বলেন, “কাঞ্চন পৌরসভায় এখনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নেই। দ্রুত ময়লা অপসারণ ও ডাম্পিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তারাবো পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান ডাম্পিং ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। নদীর ঘাটে বর্জ্য ফেলা বন্ধে সচেতনতার পাশাপাশি নতুন ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।