সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.কে.এম আহসানুল তৈয়ব জাকির শুক্রবার দিনব্যাপী সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ও মধুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন, মতবিনিময় সভা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অনুদান ঘোষণা করেন।
দুপুরে তিনি তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের দাউদিয়ারপাড়া গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পরে ওই গ্রামের আফতাব হোসেনের বাড়িতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গৃহীত ও ভবিষ্যৎ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
এদিন তিনি উপজেলার নির্মাণাধীন মহেশপাড়া জামে মসজিদ, উত্তর কালাইহাটা দারুল হাদিস ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, হাঁসরাজসহ বিভিন্ন স্থানে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভাগুলোতে স্থানীয় জনগণের সমস্যা, উন্নয়ন চাহিদা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ২৩ লাখ টাকার অনুদান ঘোষণা করেন এ.কে.এম আহসানুল তৈয়ব জাকির। ঘোষিত অনুদানের মধ্যে রয়েছে—
মহব্বতেরপাড়া জামে মসজিদের উন্নয়নে ২ লাখ টাকা, বালিয়াডাঙার খাজার মোড় রাস্তার প্যারাসাইটিং কাজের জন্য ৫ লাখ টাকা, উত্তর কালাইহাটার একটি ব্রিজের দুই পাশে প্যারাসাইটিংয়ের জন্য ২ লাখ টাকা, মহেশপাড়া জামে মসজিদের উন্নয়নে ৫ লাখ টাকা, উত্তর কালাইহাটা রাস্তার ফ্ল্যাট সোলিংয়ের জন্য ৩ লাখ টাকা, উত্তর কালাইহাটার দুটি মন্দিরের উন্নয়নে ২ লাখ টাকা, মহিলা মসজিদের উন্নয়নে ১ লাখ টাকা, উত্তর কালাইহাটা দারুল হাদিস ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়নে ৩ লাখ টাকা।
মতবিনিময় সভাগুলোতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ.কে.এম আহসানুল হাবীব রাজা, পৌর বিএনপির সভাপতি আবু নাসের ওয়াহেদ নোবেল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক আহসান হাবীব রতন, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি জহুরুল ইসলাম মন্ডল শেফা, বিএনপি নেতা মুশফিকুর রহমান, বালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, মমিনুর ইসলাম স্বপনম, জামিরুল ইসলাম, হুকুম আলী মাস্টার, রোস্তম আলী মাস্টার, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর, কৃষকদলের সদস্য সচিব মানজুদুর রহমান লানজু এবং জাসাস সভাপতি উজ্জল হোসেন খোকন।
বক্তারা স্থানীয় উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা পরিষদ প্রশাসকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।