বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা রেলস্টেশনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্টেশনমাস্টারসহ রেলওয়ের সাত কর্মী আহত হয়েছেন। হামলার সময় বুকিং কাউন্টারের কম্পিউটার ভাঙচুর এবং এক কর্মকর্তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সোনাতলা রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে স্টেশনের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন রেলওয়ের কর্মীরা।
আহতরা হলেন—সোনাতলা স্টেশনের স্টেশনমাস্টার রবিউল ইসলাম, সহকারী স্টেশনমাস্টার আব্দুল মাজেদ, বুকিং মাস্টার মাসুম পারভেজ, পয়েন্টসম্যান সাজ্জাদুর রহমান ও সোয়াইব হোসেন, পিওন দুলাল হোসেন এবং রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম আহমেদ।
স্টেশনমাস্টার রবিউল ইসলাম জানান, স্টেশনের উত্তর পাশে ফাঁকা জায়গায় গত দুই দিন ধরে একটি স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে তিনি সেখানে গিয়ে কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে এক শ্রমিক তাঁকে সেখানে গেলে সমস্যা হবে বলে সতর্ক করেন। পরে বিষয়টি লিখিতভাবে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান তিনি।
রবিউল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী আসলাম আলীর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনাটি উচ্ছেদ করে। এর কিছুক্ষণ পর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল সোনাতলা রেলস্টেশনে ঢুকে তাঁর কক্ষে হামলা চালায়। এ সময় দরজা বন্ধ করে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সময়ে বুকিং কাউন্টারে ঢুকে কম্পিউটার ভাঙচুর করা হয়।
তিনি আরও জানান, রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম আহমেদ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।
সোনাতলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান বাবু বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। পরে শুনেছেন, রেলওয়ের কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে তাঁরা স্টেশনে গিয়ে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কামরুল হাসানের দাবি, রেলস্টেশনের পাশে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একজন ঠিকাদার পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করছিলেন। তাঁর ভাষ্য, স্টেশনমাস্টার সেখানে গিয়ে জায়গাটি লিজ দেওয়ার কথা বলে ঘুষ দাবি করেছেন—এমন অভিযোগে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। বুধবার কোনো নোটিশ ছাড়াই স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, ‘কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আমি অল্প সময়ের জন্য সেখানে ছিলাম। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।
অন্যদিকে, রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী আসলাম হোসেন বলেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন সেখানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কাজ ছিল না। টয়লেট নির্মাণের কথা বলে স্থাপনা তৈরি করে পরে সেটি দোকান হিসেবে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।স্থাপনা উচ্ছেদের পর মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল স্টেশনে এসে মব সৃষ্টি করে রেলওয়ের কর্মীদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে কারা হামলা করেছে, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।