মহসিন আলী, পার্বতীপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ২নং মন্মথপুর ইউনিয়নের পূর্ব রাজাবাসর গ্রামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (৩০ মে) দুপুর ২টার পর আকস্মিকভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য তৌহিদুজ্জামান এলার্জির ওষুধ সেবন করে ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে আটকে থাকা তৌহিদুজ্জামানকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বসতঘরসহ ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিল, শিক্ষাগত সনদপত্র এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ে গড়ে তোলা তাদের বসতঘর ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে তারা চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের নেতা ওসমান আলীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এদিকে আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে জরুরি সরকারি সহায়তা এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হবে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।