সংবাদ আজকাল ডেস্ক: বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গছাইল হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট বাকী বিল্লাহ (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর চাচাতো দুলাভাই হওয়ায় ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিজরুল গ্রামের মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে বাকী বিল্লাহ গছাইল হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থল ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশেই হওয়ায় তিনি প্রায়ই সেখানে যাতায়াত করতেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২১ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বাড়িতে একা থাকা ২৬ বছর বয়সী শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে তাঁর শয়নকক্ষে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বাকী বিল্লাহ। ঘটনার পর ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে গত ৬ জুন তাকে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানো হয়। চিকিৎসকের পরীক্ষায় জানা যায়, তিনি প্রায় ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বগুড়ার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বুধবার (১ জুলাই) নন্দীগ্রাম থানায় মামলাটি রুজু হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাকী বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনায় একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, "প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বগুড়া আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।