মহসিন আলী পার্বতীপুর (দিনাজপুর): দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ আটক এক কিশোরকে আইনগত ব্যবস্থা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে থানার ওসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় বিষয়টি আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন ২০২৬ পার্বতীপুর জংশন রেলস্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে রাকিব হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। তল্লাশির সময় তার মানিব্যাগ থেকে চার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত মাদকসহ তাকে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আটক কিশোরের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ১ জুলাই ২০২৬ তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত 'জিরো টলারেন্স' নীতির প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ উন নবী বলেন, আটক কিশোরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদ হুসাইন রাজুর নির্দেশে তাকে জিম্মায় দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মাদকসহ আটকের পর এভাবে মুক্তি দেওয়ার আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হুসাইন রাজু বলেন, আটক ব্যক্তির বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কোনো নির্দেশ তিনি দেননি। বরং থানার ওসিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার শফিকুর রহমান বলেন, "পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ওসি আমাকে জানিয়েছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ওই কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।