সংবাদ আজকাল ডেস্ক: সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সহজ করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি। তাঁর কার্যালয়ের দরজায় টাঙানো হয়েছে—‘অফিসে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন।’ এমন ব্যতিক্রমী বার্তা স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ইউএনওর কার্যালয়ের দরজায় নেমপ্লেটের পাশে এ বার্তা দেখা যায়। এতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ইউএনওর কক্ষে প্রবেশ করতে সেবাপ্রত্যাশীদের আলাদা কোনো অনুমতি নিতে হবে না, এমনকি জুতাও খুলতে হবে না।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যকার দূরত্ব কমানো এবং সেবাপ্রত্যাশীদের নির্বিঘ্নে ইউএনওর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সহজে পৌঁছাতে না পেরে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। কেউ কেউ দালালের দ্বারস্থ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। বরুড়ার ইউএনওর এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়াবে।
শওকত আলী নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারি অফিসে শৃঙ্খলা, নিয়মনীতি ও সৌজন্যবোধ বজায় রেখে এমন জনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমাতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ, স্বচ্ছ ও মানবিক হবে।
এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, ‘সরকারি দপ্তর মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো সংকোচ বা দ্বিধা ছাড়াই তাঁদের প্রয়োজনের কথা জানাতে পারেন, সে জন্যই কার্যালয়ের সামনে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমার কক্ষে আসতে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতা খুলেও প্রবেশ করতে হবে না। সবাই যেন সহজে প্রশাসনের কাছে এসে সেবা নিতে পারেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।
সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি দপ্তরের দরজা উন্মুক্ত রাখার এ উদ্যোগকে জনবান্ধব প্রশাসন প্রতিষ্ঠার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।